কাঁচা আম পাড়ায় তিন শিশুকে বেত্রাঘাত ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

0
বগুড়ার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেখানে তিন শিশুকে জুতার মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে।। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠার পর গতকাল সোমবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা একটি আমগাছ থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী কাঁচা আম পেড়ে খায়। এর পরদিন ২৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম চতুর্থ শ্রেণির দুজন এবং পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অফিসকক্ষে ডেকে এনে বেত্রাঘাত করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় ওই তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে ঘোরান।

বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, জুতার মালা বানানো থেকে শুরু করে তা শিশুদের গলায় পরানোর কাজে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরাও প্রধান শিক্ষককে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। শিশুদের এই শাস্তির মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করা হয় যাতে ভবিষ্যতে কেউ আম না পাড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত ৩ মে অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত হয় উপজেলা শিক্ষা অফিস। ওইদিনই প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগমকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এরপর গতকাল সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেনের নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সকালে বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম বিদ্যালয়ে নেই। অন্য শিক্ষকরা জানিয়েছেন তিনি ছুটিতে আছেন। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত অন্য শিক্ষকরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি; তারা জানিয়েছেন যা বলার তদন্ত কমিটির কাছে বলবেন।

এদিকে স্থানীয় অভিভাবক আবু সালেহসহ এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তোপের মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইলেও, অধিকাংশ অভিভাবক জড়িত সকল শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজকের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হলে বিধিগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।