যশোরে বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ঈগল তেল পাম্পসংলগ্ন স্থানে বিএনপি নেতা হাসান আলীকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হাসান আলী ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি একই স্থানে তার বাবা, ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি খলিলুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার মিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন হাসান আলী। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

একপর্যায়ে তারা যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

ছবি: সংগৃহীত।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দাবির মুখে ইউনুস নামে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এরপর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে ইউনুসকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।

বিএনপি নেতা হাসান আলী অভিযোগ করেন, তার বাবা হত্যার মামলার রায় ঘোষণার প্রাক্কালে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার দাবি, স্থানীয় আশিক রামদা নিয়ে প্রকাশ্যে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় শিহাব নামে আরও একজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসায় অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

হাসান আলীর আরও দাবি, আশিক তার বাবা হত্যা মামলার আসামি বাছেরের ভাতিজা  ও  ইউনুস হচ্ছেন ভাই। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে টাকার বিনিময়ে এ হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এতে ইউনুসেরও ইন্ধন রয়েছে।

ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জীবন কুমার বলেন, রাতে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।  এক পক্ষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ এ ধরনের কোনো অস্ত্র বা আলামত পায়নি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।