যশোরে পূজা পরিষদের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছেন সনতান ধর্ম সংঘের সম্পাদক অখিল কুমার চক্রবর্তী।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবি পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।

অখিল কুমার চক্রবর্তী মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে তিনি প্রয়োজনীয় কাজ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হন।

এসময় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ তার হাতে একটি কাগজ দিয়ে বলেন, ‘তোমার নামে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়ে এসেছি। পুলিশ যখন নাশকতা মামলায় অ্যারেস্ট করে হাত-পা ভেঙ্গে দেবে তখন তোমার জোড়া শিব মন্দিরের সেবায়েত হওয়ার সাধ মিটে যাবে।’ অখিল কুমার চক্রবর্তী এ সময় অভিযোগের কপিতে দেখেন, শহরের ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে শারদ উৎসবে সম্ভাব্য বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অখিল কুমার চক্রবর্তীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। সাত জনের মধ্যে অখিল কুমার চক্রবর্তী নিজে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

তাছাড়া তিনি ঝিনাইদহের সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, যশোর শ্রীশ্রী জোড়া শিব মন্দিরের সেবায়েত ও সভাপতি এবং বৈষম্য বিরোধী সনাতন সমাজ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য সচিব।

এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার ও হরিসভা মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মৃনাল কুমার দে, মানবাধিকার সংগঠক ও রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, যশোর সদর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় অফিসার দীপক কুমার রায়, যশোরের সাহা ব্রিকস’র সত্ত্বাধিকারী ও নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সনৎ সাহা, যশোরের খাজুরা সরকারি শহিদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের যশোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি গোপীকান্ত সরকার, যশোর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের যশোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অসীম কুন্ডু।

উল্লিখিত আসামীদ্বয় অখিল কুমার চক্রবর্তীসহ অপর ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহিন অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছে দিয়ে তাদের সম্মানহানি ঘটিয়েছেন। এতে তাদের এক কোটি টাকার সম্মানহানি ঘটেছে।