যশোরে নির্যাতনে ছাত্রদল নেতা হাশেমের মৃত্যুর ঘটনায় আ. লীগের ৬ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাশেম আলীকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৬ কর্মীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সদর আমলী আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের শ্রীপদ্দি ঘোড়াগাছা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম মামলাটি করেছেন।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগে বিষয়ে থানায় কোনো মামলা আছে কিনা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীর আইনজবীবী তাহমিদ আকাশ।

আসামিরা হলেন, শ্রীপদ্দি ঘোড়াগাছা গ্রামের মৃত তবজেল মোড়লের ছেলে নজর আলী খোকা, চাউলিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে কাশেম বিশ্বাস, সামাদ কলুর ছেলে মিজানুর রহমান ভুট্টো, মুস্তা মাস্টারের ছেলে রিপন হোসেন, নুর আলী বিশ্বাসের ছেলে আলমগীর বিশ্বাস ও শাহবাটি গ্রামের (চাউলিয়া হাইওয়ে তেল পাম্পের পাশে) মৃত জব্বার গাজীর ছেলে শাহাবুদ্দিন গাজী।

আবুল কাশেমের অভিযোগ, তার ছোটভাই হাশেম আলী সরকারি সিটি কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। আসামিরা নদী হতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করতেন। এ কারণে তারা বালি খেকো নামে পরিচিত।

আবুল কাশেমের ছোটভাই হাশেম আলী তাদের অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বিক্রির প্রতিবাদ করায় তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। তারা পথের কাঁটা দূর করতে হাশেম আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট বিকেল পৌনে ৩টার দিকে হাশেম আলী কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চাউলিয়া ফুয়েল পাম্পের পাশে পৌঁছালে আসামিরা তাকে জোর করে ধরে শাহাবুদ্দিন গাজীর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। দড়ি দিয়ে হাত-পা এবং গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ড্রামের পানির ভেতর মাথা চুবিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

খবর পেয়ে আবুল কাশেম ও তার মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা আসামিদের কাছে হাশেম আলীর প্রাণ ভিক্ষা চান এবং আর ছাত্রদল করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্বজনেরা গুরুতর আহত অবস্থায় হাশেম আলীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

এছাড়া পরে তাকে আরও কয়েকটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করানো হয়। পরবর্তীতে আসামিরা হাশেম আলীকে কয়েকটি মিথ্যা নাশকতার মামলার আসামি বানিয়ে দেন। এ কারণে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকেন এবং কিছুদিন জেলও খেটেছেন হাশেম আলী। এ জন্যে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারেননি তিনি। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর স্বজনেরা তার সুচিকিৎসার জন্যে তাকে পর্যায়ক্রমে ঢাকা পিজি হাসপাতালে ও ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করেন।

কিন্তু আসামিদের নির্যাতনের কারণে হাশেম আলীর রক্তে ইনফেকশন হয় ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার খাবার খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাশেম আলী।