যশোরে ধর্ষিতা মাদ্রাসাছাত্রীর সন্তান প্রসব পিতা-মাতাকে আটকে রেখে হত্যার হুমকি

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের পল্লীতে এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে সন্তান প্রসব করেছে। বিষয়টি নিয়ে গোপন রাখার জন্য ধর্ষক ও তার ভাই ইউপি সদস্য তার পিতা-মাতাকে আটকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষিতা যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর দারুল আমান মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। তার পিতা রাজমিস্ত্রির যোগালে এবং মাতা হামিদপুর শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে রান্নার কাজ করেন।
ধর্ষিতার পিতা জানিয়েছেন, একই গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কন্যাকে ধর্ষণ করে। গত ১৫ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। তখন চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দেন মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা।
পিতা-মাতা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে ৩ সন্তানের পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে ধর্ষণ করে। জাহাঙ্গীর হোসেন শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির নাইটগার্ড। বিষয়টি জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার ভাই ১২ নং ফতেপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আকরাম হোসেনকে জানানো হয়। তখন আকরাম হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেন ধর্ষিতার পিতা-মাতাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, ঘটনা জানাজানি হলে তাদেরকে হত্যা করা হবে। এ নিয়ে সালিশ বিচারও হয়। এ অবস্থায় মেয়েটির গর্ভধারণের ৯ মাস পূর্ণ হয়। তখন লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মনিরামপুরের হামিদপুর গ্রামে নানাবাড়ি নেয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর রোববার সকালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সত্যবাজার পল্লী স্বাস্থ্য ক্লিনিকে নিয়ে মেয়েটিকে সিজার করানো হয়। সেখানে মেয়েটি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। পরে তার দরিদ্র পিতা যশোর কোতয়ালি থানায় ধর্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার ভাই ইউপি সদস্য আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার দায়েরকারী পিতা জানিয়েছেন, এরপর আকরাম হোসেন তাকে ও তার স্ত্রীকে ডেকে েিনয় বাড়ি একটি কক্ষের ভেতর আটকে ফেলে এবং নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্যে জোরপূর্বক লিখিত নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ পরিস্থিতিতে লোকজন কোতয়ালি পুলিশকে সংবাদ দেন। তখন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার এবং সন্তান প্রসবকারী ছাত্রীকে রাত ২টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নবজাতকটিকে তার নানী নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। কোতয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কারো সালিশ বিচার করার ক্ষমতা নেই। বিষযটি নিয়ে মামলা হবে। বর্তমানে আসামিরা পলাতক রয়েছে।