যশোরে জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বাসচালক খুন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দিন সাবু (৩৭) নামে একজন বাসচালক খুন হয়েছেন। শহরের শংকরপুরস্থ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে গত বুধবার রাতে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে মুড়লি রেলক্রসিংয়ে তার লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে জিআরপি পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত শাহাবুদ্দিন সাবু সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের হাসান মোল্লার ছেলে।
শহরের রেলগেট এলাকার আব্দুর রবের ছেলে পরিবহন শ্রমিক মো. খোকন জানান, সাবু যশোর-বেনাপোল রুটের একটি বাসের (যশোর-হ-১১-০০৬৬) ড্রাইভার। তার সাথে তিনি একই বাসে কাজ করেন। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তিনি ও সাবুসহ কয়েকজন গাড়িতে করে বেনাপোলে যান জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে হরিণ মার্কার সদস্য প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য। কিন্তু সেখানে হরিণ মার্কার পাশাপাশি ডালরেঞ্জ মার্কার (সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সেলিম রেজা মিঠুর মার্কা) পক্ষে কাজ করতে থাকেন সাবু। এতে ক্ষিপ্ত হন ফারুক নামে একজন কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার। ডালরেঞ্জ মার্কার পক্ষে কাজ করায় ফারুক তাকে আজেবাজে মন্তব্য করায় এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাবুকে দেখে নেবার হুমকি দেন ফারুক। এ ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে যশোর শহরের চৌরাস্তায় ফের সাবুর সাথে ফারুকের দেখা হয়ে যায়। ফারুকের সাথে শংকরপুর বাসটার্মিনাল এলাকার মোস্তসহ কয়েকজন ছিলেন। এখানে ফারুক সাবুর সাথে মারমুখি আচরণ করেন। তার সহযোগী মোস্ত সাবুকে লাঞ্ছিত করেন। বাসটার্মিনাল এলাকায় গেলে সাবুকে এ সময় তারা দেখে নেবার হুমকি দেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি (খোকন) ও সাবু বাসটার্মিনাল এলাকায় যান। সাবুকে দেখা মাত্রই তেড়ে আসেন মোস্ত। তাকে তিনি (মোস্ত) লাথি মারেন। জবাবে সাবুও তাকে চড় মারেন। এর কিছুক্ষণ পর ফারুক টার্মিনাল এলাকায় আসেন। এ সময় ফারুক ও মোস্তসহ ৪ জন মিলে তারই (খোকন) সামনে সাবুকে জোর করে কাভার্ডভ্যানে তুলে মুড়লির দিকে নিয়ে যান। এরপর সাবুর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন মুড়লি রেলক্রসিংয়ে তার লাশ পাওয়া যায়। খোকনের অভিযোগ, মোস্ত ও ফারুকসহ অন্যরা ধরে নিয়ে গিয়ে সাবুকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে মোস্ত ও ফারুকসহ তাদের সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
এদিকে জিআরপি পুলিশ জানায়, লাশটি মুড়লি রেলক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর পড়ে ছিলো। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তারা লাশটি উদ্ধার করে। নিহত সাবুর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া দুই পা এবং ডান হাত ভাঙা ছিলো। আর বাম পায়ের পাতা কাটা পাওয়া যায়। জিআরপি ফাঁড়ি পুলিশ আরো জানায়, তারা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে ট্রেন দুর্ঘটনায় হয়তো তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তারা লাশের ময়নাতদন্ত করেছে। যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, জিআরপি পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। ফলে এ সংক্রান্ত যাবতীয় পদক্ষেপ নেবে জিআরপি পুলিশ। তবে জিআরপি পুলিশ চাইলে তারা (কোতয়ালি পুলিশ) তাদেরকে তদন্তে সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সেলিম রেজা মিঠু বলেন, ‘শাহাবুদ্দিন আমার কর্মী ছিলেন। তিনি আমার জন্য ভোট প্রার্থনা করেছিলেন। এটা তার অপরাধ। এই কারণে যদি খুনের ঘটনা ঘটে তা অবশ্যই পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের আটক ও বিচারের প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাবে।’ তিনি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।