যশোরে চালের কেজিতে বাড়ল ৪ টাকা

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। যশোরে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। এদিকে, আমদানি বাড়লেও এ সপ্তাহে অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে কাঠেরপুলে গরুর মাংসের দামও। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারির অভাবে নিত্যপণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়ছে। শুক্রবার যশোরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের বড় বাজারে প্রতি কেজি চালে ৪ টাকা বেড়েছে। শুক্রবার চালবাজার বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা। বিআর-৬৩ চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা। কাজললতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬৪ টাকা। তাছাড়া বাংলামতি চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা, নূরজাহান চাল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা ও হীরা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দর।

বড় বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা মো. ইসহাক জানান, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার আমন আবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আমন ধান চলে আসবে। তবে চালের সংকট সহজে কাটবে না বলে তার ধারণা।

এদিকে চলতি সপ্তাহে বাজারে পেঁয়াজে ১০ টাকা ও আলুতে ৫ টাকা দাম বেড়েছে। শুক্রবার বড় বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকা ও আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ১৩০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। আর শুক্রবার প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। বড় বাজার কালীবাড়ি মার্কেট এলাকার আড়তদার নিতাই চন্দ্র সাহা জানান, দেশি পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের সংকট কিছুটা কেটেছে। তিনি আরও জানান, যশোরে উত্তরবঙ্গ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আলু আসে। ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহী কোল্ডস্টোরেজে আলুর দাম বেশি। তিনি আলুর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠে বড় বাজারে সবজির সরবরাহ একটু একটু করে বাড়ছে। তবে এ সপ্তাহেও অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার ভেতরে রয়েছে বাঁধাকপি, বিক্রি হচ্ছে মানভেদে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। করোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। এ ছাড়া গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, উচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, শিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা,ফুলকপি ১৫০ টাকা, কুমড়ো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। বড় বাজারের আড়তদার জহিরুদ্দিন কাজল জানান, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে সরবরাহ বেড়ে সবজির দাম কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

এছাড়া বড় বাজার কাঠেরপুলে গরুর মাংস বাড়তি দামে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রেতারা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির ঘোষণা দিলেও হাড়-চর্বি ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস নিচ্ছেন ৭৫০ টাকা।

শুক্রবার বড় বাজারে আসা ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দোহাই দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম আরও বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তদারকি সংস্থাগুলো আরও তৎপর হলে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রিত থাকতো।