মনিরামপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক চালকল মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পলাতক রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসী মিন্টুর বাড়ি ও চালকলে ভাঙচুর করেছেন। উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

মনিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী জানান, সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ মিন্টুর চালকলের একটি কক্ষ থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সরূপ জাহান সাথীর (৪৫) বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ওই ঘরেই থাকতেন। সাথী উপজেলার কাজিয়াড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম বক্সের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে।

ওসি আরও জানান, নিহত সাথীর বাবার বাড়ির লোকসহ স্থানীয়দের অভিযোগ বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা এনে না দেওয়ায় মিন্টু তাকে হত্যা করেছেন। অভিযুক্ত মিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম জানান, খাটুয়াডাঙ্গা বাজারের পাশে মিন্টুর রাইসমিল ও চাতাল। চাতালের পাশেই তার পাকা বাড়ি। এ বাড়িতেই দুই সন্তানসহ বড় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন মিন্টু। তিন বছর আগে তার চাতালের শ্রমিক স্বামী পরিত্যক্তা সরূপ জাহান সাথীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সাথীকে নিয়ে চাতালের একটি কক্ষে রাখেন মিন্টু। প্রথম স্ত্রী ও তার দুই সন্তান বাড়িতে থাকতো।

নিহত সাথীর মা ভানু বিবি জানান, গতবছর সাথী পিতার বাড়ির জমি বিক্রি করে চারলাখ টাকা দেন মিন্টুকে। গতমাসে আবারও মিন্টু সাথীকে চাপ দেয় পিতার বাড়ির বাকি জমি (সাথীর অংশ) বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সাথী দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে সাথীর সাথে মিন্টুর বিরোধ দেখা দেয়।

এদিকে এ হত্যার প্রতিবাদে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা মিন্টুর বাড়ি ও চালকল ভাঙচুর করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বাবার পরিবারের সদস্যরা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আব্দুর রশিদ মিন্টু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা। ইতোপূর্বে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে কয়েকমাস কারাগারে ছিলেন।