হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর পূর্তি: নিহতদের স্মরণে ৪ দেশের কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় বার্তা

0
রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ।। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্ণ হয়েছে। এক দশক আগের সেই ভয়াবহ হামলায় সাহসী যে মানুষগুলো প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ করতে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ যাতে আর কখনোই মাথাচাড়া না দেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার প্রত্যয়ে আজ বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) গুলশানে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এক বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হামলাকারীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু তাঁদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে মানুষের সংহতির বোধ এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে যৌথ অঙ্গীকার আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই স্মরণ অনুষ্ঠানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে প্রথমে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপিত একটি বিশেষ নামফলকের সামনে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নিহত ফারাজ আইয়াজ হোসেনের পক্ষে তাঁর বড় ভাই যারেফ আয়াত হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ঢাকায় অবস্থানকারী প্রবাসী ইতালীয়দের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মা ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত আলবার্ট সিয়া, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকেরা।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুধু নিহতদের স্মৃতির প্রতি নয়, তাঁদের পরিবারগুলোর সাহস, সহনশীলতা ও ঐক্যের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ধরনের উগ্র শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই।’

ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো তাঁর বক্তৃতায় দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লাকে উদ্ধৃত করে বলেন, নিহত ব্যক্তিরা এসেছিলেন বিভিন্ন পটভূমি থেকে, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ ও মেধাবী। সভ্যতার মূলনীতি রক্ষার জন্য এবং একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত ও পারস্পরিক সংহতির সমাজ নির্মাণে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে হবে।