১২ দিন ধরে নিখোঁজ মণিরামপুরের হারুনার রশিদের জীবিত সন্ধান দাবি পরিবারের 

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপীকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হারুনার রশিদ (৪৬) নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত থাকলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার।

একই সঙ্গে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় তারা মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে হারুনার রশিদকে দ্রুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার।

বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হারুনার রশিদের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. এমরান আলী। এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে এমরান আলী বলেন, গত ২০ জুন বিকেলে কেশবপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন হারুনার রশিদ। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বের হন এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পরদিন ২১ জুন আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না পাওয়ায় মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১২৩) করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে হারুনার রশিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার জুইখালী কামারালী এলাকায় শনাক্ত হয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালালেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তদন্তে র‌্যাব-৬ যুক্ত হয়। তবে একাধিক সংস্থা কাজ করলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান কিংবা নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

এমরান আলী বলেন, “প্রতিটি দিন আমাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে। পরিবারের সবাই চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে। আমরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখছি। কিন্তু ১২ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন।”

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য চান না। তারা শুধু চান হারুনার রশিদ জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।