উইচ্যাটের প্রেম গড়াল যশোরের কোর্টে, চীনা যুবক হলেন বাংলাদেশি জামাই

0
ইসলাম গ্রহণ করে 'মোহাম্মদ তাওহিদ' নাম নিয়ে বাউলিয়া গ্রামের জামাই হলেন চীনা যুবক।। ছবি: সংগৃহীত

ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা কিংবা হাজার মাইলের দূরত্ব—কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি দুই তরুণ-তরুণীর ভালোবাসার পথে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বাসিন্দা লি বিং এবং যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের তন্দ্রা খাতুনের প্রেমের পরিণতি ঘটল বিয়েতে। শুধু বিয়েই নয়, তন্দ্রার ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এই চীনা প্রকৌশলী, যা এই সম্পর্ককে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা।

দুজনের পরিচয়ের সূত্রপাত ঘটেছিল একটি ভাষা শেখার অ্যাপ ‘হ্যালোটক’ (HelloTalk)-এর মাধ্যমে। যশোর সদর উপজেলা পরিষদের তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত তন্দ্রা ইংরেজি ও চীনা ভাষা শেখার চেষ্টা করছিলেন, আর লি বিং খুঁজছিলেন কথোপকথনের বিশ্বস্ত কোনো সঙ্গী।

এই পরিচয় দ্রুতই গড়ায় বন্ধুত্বে, এবং পরে তারা যোগাযোগ চালিয়ে যান চীনের জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে। প্রায় আট মাস ধরে প্রতিদিন ভিডিও কল ও বার্তা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে একে অপরের পরিবার, সংস্কৃতি ও জীবনবোধ সম্পর্কে জানাশোনার পর লি বিং সিদ্ধান্ত নেন, তন্দ্রাই তার জীবনসঙ্গী হবেন।

এই সিদ্ধান্তের পরই গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে লি বিং আকাশপথে ঢাকায় পৌঁছান এবং একই দিন সড়কপথে যশোরে চলে আসেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগে তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ১৯ জুন ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কালিমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তার নতুন নাম রাখা হয় ‘মোহাম্মদ তাওহিদ’।

একই দিন অর্থাৎ ১৯ জুন বিকালে দুই পরিবারের সম্মতি ও উপস্থিতিতে যশোর জেলা জজ কোর্টে লি বিং ও তন্দ্রার আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর নতুন বরকে নিয়ে তন্দ্রা যখন বাউলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরেন, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে আশপাশের কয়েক গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমান, আর কনের পরিবার সাধ্যমতো বাঙালি রীতিতে বরণ করে নেয় জামাইকে।

তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার কন্যা। অন্যদিকে লি বিং বেইজিংয়ের একটি স্বনামধন্য স্মার্ট লক (ডিজিটাল তালা) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ভাঙা ভাঙা বাংলায় লি বিং জানান, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ এবং তন্দ্রাকে স্ত্রী হিসেবে পেয়ে তিনি অত্যন্ত সুখী। তন্দ্রার বাবা মন্টু মোল্লা বলেন, “প্রথমে একটু দ্বিধা থাকলেও ছেলের সততা ও ভালোবাসা দেখে আমরা এই বিয়েতে রাজি হয়েছি। জামাই অত্যন্ত নম্র।”

তন্দ্রা খাতুন জানিয়েছেন, বিয়ের আইনি ও ধর্মীয় সব প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে চীনে যাওয়ার ভিসা প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। সব কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই তিনি স্বামীর সঙ্গে বেইজিংয়ে পাড়ি জমাবেন।