আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ফেসবুকে লাইভে এসে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে বিষোদগার করাসহ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মামলাটি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন।
এছাড়া ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে আরও একটি মামলা হয়েছে। চট্টগ্রামের মেসার্স নদী বাংলা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহম্মেদ অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ।
পুুলিশ জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলনের দায়ের করা মামলায় আসামি আনোয়ার হোসেন বিপুল শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়া এলাকার জবেদ আলীর ছেলে। আসামি আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনিত ঘটানোসহ চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন মো. শহিদুল ইসলাম মিলন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন মামলায় উল্লেখ করেছেন, আসামি বিপুল যশোর শহরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত। তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাজী নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার আসামি এবং শহরের কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম গডফাদার। ওই আসামি প্রায়ই যশোরের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের নামে বিষোদগার এবং চাঁদাবাজি করে থাকেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর সোয়া ১টার দিকে মো. শহিদুল ইসলাম মিলন কয়েকজন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে ঘোপ জেল রোডের বাড়ি থেকে উপশহরে যাচ্ছিলেন। পথে ডিআইজি রোড সংলগ্ন জেল রোডের মাথায় পৌঁছালে আসামি বিপুলের সাথে তার দেখা হয়। এ সময় বিপুল তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি উপজেলা নির্বচনে প্রার্থী হবেন। এ জন্য নির্বাচনী খরচ বাবদ মো. শহিদুল ইসলাম মিলনের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই আসামি। চাঁদা না দিলে মো. শহিদুল ইসলাম মিলনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মানহানি ঘটানোর হুমকি দেন বিপুল। এছাড়া ফেসবুকে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে মো. শহিদুল ইসলাম মিলনকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তখন মো. শহিদুল ইসলাম মিলন তাকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বিপুল তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিপুল নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ শাহীন চাকলাদারসহ দলের পদধারী নেতাকর্মী, কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করেন। মো. শহিদুল ইসলাম মিলনের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে গণধোলাই, ফতেপুরে জমি দখল করতে গিয়ে নারীদের হাতে ঝাঁটাপেটা এবং ষষ্ঠীতলা পাড়ায় গৃহবধূর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়া সংক্রান্ত মিথ্যা বক্তব্য রাখেন বিপুল। এ ধরনের অসত্য বক্তব্যের কারণে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মো. শহিদুল ইসলাম মিলনের হানহানি ঘটেছে। তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করায় তার প্রায় ২ কোটি টাকার সম্মানহানি করেছেন আসামি বিপুল। এ কারণে মো. শহিদুল ইসলাম মিলন দলীয় সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ করে বিপুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, আসামি বিপুলকে আটকের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার আদালতে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলার আসামিরা হলেন, শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ার জবেদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন বিপুল, শেখহাটি মুক্তিযোদ্ধা সড়কের এস এম সিরাজুল ইসলামের ছেলে বর্তমানে উপশহর বাবলাতলার বাসিন্দা এস এম মোস্তাফিজুর রহমান কবির, পুরাতন কসবা পাওয়ার হাউজ পাড়ার খোদাবক্স বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হামিদ, পুলিশ লাইন্স এলাকার বাসিন্দা নুর আলম ও আব্দুল হাই ওরফে শাহাবুদ্দীন।
মামলায় বাদী মো. জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেছেন, আসামি আব্দুল হামিদ, নুর আলম ও শাহাবুদ্দীনের শহরের বারান্দী মৌজায় ৫ শতক জমিতে ৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য তিনি ২০১২ সালে চুক্তিবদ্ধ হন। শর্ত থাকে যে, আসামিরা ভবনের ৪০ শতাংশের এবং বাদী মো. জাহাঙ্গীর আলম ৬০ শতাংশের মালিক হবেন। এরপর মো. জাহাঙ্গীর আলম সেখানে ৫ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করে শর্ত অনুযায়ী আসামিদের প্রাপ্য ভবনের অংশ হস্তান্তর করেন। ওই ভবনের নাম নদী বাংলা কাশেম টাওয়ার। কিন্তু পরবর্তীতে মো. জাহাঙ্গীর আলম ৬ তলা হতে ৯ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করতে গেলে আসামি আব্দুল হামিদ, নুর আলম ও শাহাবুদ্দীন অপর দুই আসামি আনোয়ার হোসেন বিপুল ও এস এম মোস্তাফিজুর রহমান কবিরের সহায়তায় তাকে আর কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকী মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভবনের প্রাপ্য অংশ বিক্রিতেও বাধা দেন তারা। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি তাকে ডেকে তার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন আসামি বিপুল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামি বিপুল ও কবির অন্য আসামিদের সহায়তায় ভবনের ৪ তলার সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেন। সেখানে আসামি বিপুল তার অফিস খুলে বসেন। এছাড়া আসামিরা তাকে ওই ভবনের কাছেও আর ভিড়তে দেননি। ওই ঘটনার পর আসামি বিপুল তাকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পূর্ব বারান্দীপাড়া ঢাকা রোড ব্রিজ সংলগ্ন ঈদগাহে দেখা করতে বলেন। মো. জাহাঙ্গীর আলম তার কথামত ওইদিন সেখানে যান। এ সময় আসামি বিপুল তার কাছে ফের ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিয়ে ভবনের কাছে গেলে তাকে হত্যা করে লাশ গুমেরও হুমকি দেন বিপুল। এছাড়া তাকে হুমকি দিয়ে আরও বলা হয়, বিপুল রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় তার কথায় নাকি বহু কিছু ঘটে। এ কারণে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম।