যশোরে আফজাল হত্যায় জড়িতরা আটক হয়নি,দুর্বৃত্তদের আশ্রয়দাতা কাউন্সিলর !

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে হত্যাসহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামি আফজাল হত্যাকা-টি পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। ইতোপূর্বে ছুরিকাঘাত করায় প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসী ট্যারা সুজন তাকে হত্যা করেছে। পুলিশও হত্যার বিষয়ে একই ধারণা পোষণ করছে। তবে পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, অপরাধীদের আটকের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে আফজাল হত্যায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ট্যারা সুজন একজন পৌর কাউন্সিলরের আশ্রয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি দলের ওই জনপ্রতিনিধির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ট্যারা সুজন ও তার সহযোগীদের উপস্থিত থাকতে দেখেছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, দেড় বছর আগে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আফজাল সন্ত্রাসী ট্যারা সুজনকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এতে গুরুতর জখম হয় ট্যারা সুজন। আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্থানীয় লোকজন চাঁদা তুলে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে একজন পৌর কাউন্সিলর তার চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। সুস্থ হওয়ার পর ট্যারা সুজন ওই জনপ্রতিনিধির কাছে উঠাবসা করতো। জনপ্রতিনিধির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন অনেকে। সূত্র জানায়, ছুরিকাঘাত করায় পূর্ব এই আক্রোশে ট্যারা সুজন দীর্ঘদিন ধরে আফজালকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলো। গত রোববার রাতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় সংলগ্ন পুকুরের বিপরীতে সিটি মডেল একাডেমির সামনে পেয়ে আফজালকে কুপিয়ে হত্যা করে সুজন ও তার সহযোগীরা। এ সময় সেখানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সূত্র জানায়, আফজাল হত্যার সাথে ট্যারা সুজন ও তার সহযোগী পোস্টার বিল্লাল, জাহিদ, মিলন, সুজন, পলাশসহ ৭/৮ জন জড়িত।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ট্যারা সুজনের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ইতোপূর্বে ট্যারা সুজনকে ছুরিকাঘাত করার কারণে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে আফজাল খুন হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে জড়িতদের আটক করতে পারলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, আফজাল হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো এজাহার দাখিল করা হয়নি।
অপরদিকে সোমবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আফজালের লাশ নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় শ’ শ’ নারী-পুরুষ লাশ দেখার জন্য তার বাসায় ভিড় করেন। সপ্তাহ খানেক আগে নিহত আফজাল হোসেন তৃতীয় পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। এ কারণে আফজাল খুন হওয়ায় অনেককেই দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যারাতে শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকায় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আফজাল হোসেন।