যশোরের ছয়টি আসনে ৪৬টি মনোনয়নপত্রের ২৮টি বৈধ

0
ছবি: সংগৃহীত।

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনে যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনে ছয়জনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর আগের দুই দিনে বাকি চারটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ৬টি আসনে মোট ২৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি বাতিল ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এতে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৫ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম একটি ব্যাংকের ঋণখেলাপির জামিনদার হওয়ায় এবং জাতীয় পার্টির জিএম হাসানের দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় তা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী ও এবি পার্টির মাহমুদ হাসান।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৮ জন। যাচাই-বাছাইকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামানের সমর্থক তালিকায় প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটার না থাকায়, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এম হালিমের মনোনয়নপত্রে সাক্ষীর এফিডেভিটে স্বাক্ষর না থাকায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম গোলাম মোস্তফার সমর্থক তালিকায় ত্রুটি ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলামের অঙ্গীকারনামায় স্ট্যাম্প না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত রশীদ আহমাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক ও স্বতন্ত্র শহীদ ইকবাল হোসেন (বিএনপি নেতা)।

এদিকে গত শুক্রবার যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের যাচাই-বাছাই করা হয়। সদর আসনে শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, সিপিবি’র রাশেদ খান ও জাগপা’র নিজাম উদ্দিন অমিত।

যশোর-৪ আসনে ১০ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপির টিএস আইয়ূব, অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণখেলাপি হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিল। তার ছেলে ফারহান সাজিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটারের তালিকায় অসত্য তথ্য দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বিএমজেপি’র সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতের মুহাম্মদ আজীজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান, বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনোনীত ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় ফরিদের এবং দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানেরও সমর্থক তালিকায় ত্রুটি থাকায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসদ’র ইমরান খান ও এবি পার্টির রিপন মাহমুদ।

যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, জেলার ৬টি আসনে মোট ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি ১০ জন, জামায়াতে ইসলামী ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলন ৬ জন এবং জাতীয় পার্টি থেকে ৬ জন প্রার্থী ছিলেন।