যশোরের চৌগাছায় বাড়ছে শব্দ দূষন

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে শব্দ দূষন। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কোন না কোন ভাবে শব্দ দূষন করে চলেছে। শব্দদূষন নিয়ন্ত্রনে আইন থাকলে তা প্রয়োগ হচ্ছেনা অভিযোগ অনেকের। এরফলে সব থেকে বেশি ক্ষতিরমুখে পড়ছে ছোট্ট শিশুরা। ভয়াবহ শব্দ দূষন থেকে পরিত্রান পেতে উপজেলাবাসি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নানা শ্রেনী পেশার মানুষের বসবাস শান্ত চৌগাছা দিন যত যাচ্ছে ততই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে অভিযোগ স্থানীয়দের। ছোট্ট শহরের প্রতিটি সড়ক সকাল থেকেই ছোটখাটো যানবাহনের দখলে চলে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে ওই সব বাহনের সংখ্যা। এসব বাহনের চালকরা বলাচলে সম্পূর্ণ অদক্ষ, তারা কোথায় কিভাব দাঁড়াতে হবে, হর্ণ বাজাতে হবে, যাত্রী উঠা নামানো করতে হবে কিছুই জানেনা। বাস ট্রাক থেকে শুরু করে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতাল, মসজিদ, বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব কিছুই সমান চালকদেরর কাছে। বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে সড়কে চলাচল করাই যেন এই চালকদের কাছে নিয়মে পরিনত হয়েছে।
শব্দ দূষনে মেতে উঠেছে বিভিন্ন বে-সরকারী হাসপাতাল বা ক্লিনিক গুলো। কে কত বেশি প্রচার প্রচারনা চালাবে এই নিয়ে তাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগীতা। তাদের ব্যবহৃত মাইকের শব্দে বাজার কিংবা গ্রামের মানুষ নাজেহাল। এরসাথে পাল্লা দিয়ে চলে বিভিন্ন ধর্মীয় সভার মাইক। বতর্মানে মাহে রমজানে বাজারের কিছু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে ১লা রমজান থেকেই প্রচার মাইক বের করেছেন। তারাও সমান তালে শব্দ দূষনে মেতে উঠেছে। শুধু তাই না চৌগাছা বাজারের মুরগী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ইঁদুর মারার ওষুধ বিক্রেতা এমনকি ভিক্ষুকরাও মাইকে প্রচার চালিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন।
নছিমন, করিমন, আলমসাধু ইটভাঙ্গা মেশিন সব কিছুই চলে স্যালো চালিত ইঞ্জিনে। এসব বাহনের অধিকাংশ চালকই অদক্ষ। পথচারিরা বলেন, নছিমন করিমন ও ইটভাঙ্গা মেশিনের চালকরা বাহনে শব্দ বের হওয়া যন্ত্রটি খুলে রেখে সড়কে চলরাচল করে। এর ফলে শব্দ করেক গুন বেড়ে যাই, অনেকে ভয়ে দ্রুত তাদের সাইড দিয়ে দেয়। নানা ভাবে চৌগাছায় শব্দ দূষনে মেতে উঠেছে অসাধু ব্যক্তিরা। এরফলে সাধারণ মানুষ যেমন শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছেন, সেই সাথে মানষিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শব্দ দূষন দুশ্চিন্তা, অবসাদ, উদ্বিগ্নতা, নিদ্রাহীনতা বাড়িয়েছে দেয় অভিমত বিশ্লেষকদের। বর্তমানে ৩০টির মত কঠিন রোগের অন্যতম কারণ হলো শব্দ দূষণ। শব্দ দূষন নিয়ে দেশে আইন আছে। শব্দের মাত্রা কেমন হতে হবে সেটাও আইনে উল্লেখ করা আছে। বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাত ৯ টা হতে ভোর ৬টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল (শব্দ মাপার যন্ত্র) এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবল অতিক্রম করতে পারবেনা। বানিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবল। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতের আশপাশে নিরব এলাকা ঘোষনা করা হয়েছে। সেখানে রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু সেটা মেনে চলা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষও এসব ব্যাপারে একেবারেই নীরব। শব্দ দূষনের ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ দাবি করেছেন উপজেলার সচেতন মহল।