যশোরের চৌগাছার মানুষ নিত্যপন্যের উর্দ্ধগতির কাছে চরম অসহায়

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় চাল ডাল, আটা, চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রের লাগাম কোন ভাবেই টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। বাজার নিয়ন্ত্রনে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে চাল আটা, টিসিবির মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়েছে চিনি ডাল, তেল কিন্তু এর কোন প্রভাব পড়েনি বাজারে অভিযোগ ক্রেতা সাধারনের। উর্দ্ধগতির এই বাজার দরের কাছে একেবারেই অসহায় সাধারণ মানুষ। পবিত্র মাহে রমজানে যে কোন মূল্যে নিত্যপন্য সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছে ক্রেতা সাধারনসহ সচেতন মহল।
প্রায় দুই মাস ধরে চৌগাছা পৌর এলাকায় ৩ জন ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে চাল আর আটা। এরই মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রনের লক্ষে বুধবার পৌরসভার ২টি পয়েন্টে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে তেল চিনি আর ডাল। এত কিছুর পরও বাজারে এর কোন প্রভাব পড়েনি। এখনও বাজারে খোলা সোয়াবিন লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা হতে ১৬২ টাকায়, আর বোতলজাত সোয়াবিনের দাম আরও বেশি। ১ লিটার বোতল সোয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ হতে ১৬৮ টাকা পর্যন্ত। অনুরুপ ভাবে চিনি ৭৮, মশুর ডাল ৯৫, ছোলার ডাল ৮০, বুট ৫২ আর মুগডাল ১২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ৩৫ ও প্যাকেট আটার কেজি ৪০ টাকা। মোটা ও চিকুন চালের দাম আগের মতই আছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
চাল ডালের দামের চেয়ে সবজির দাম যেন হুহু করে বাড়ছে। ৫শ টাকা নিয়ে কোন ব্যক্তি সবজি বাজারে গেলে পরিবারের চাহিদা মোতাবেক সবজি কিনতে ব্যর্থ হচ্ছেন। শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে চৌগাছার প্রধান কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজির যথেষ্ঠ যোগান আছে কিন্তু দাম সাধারনের ক্রয় ক্ষতার বাইরে। এদিন বাজারে মৌসুমী সবজি সজিনা ১ কেজি বিক্রি হয়েছে ২শ থেকে আড়াইশ টাকায়। বেগুন ৪০, কুশি ৬০, পটল ৬০, উচ্ছে ৮০, ভেন্ডি ৮০, কচুরলতি ৬০, কাঁচামরিচ ৯০, টমোটো ৪০, কাঁচাকলা ৩৫, মিঠকুমড়া ৪০, খিরা ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লাউ প্রতিটি ৫০, ডাটা ১ আটি ২০, পুইশাক ৩০ আর লাল শাক ১৫ টাকা।
এদিকে বাজারে সব ধরনের মাংসের দাম আবারও বেড়েছে। শুক্রবার বাজারে ১ কেজি খাশির মাংস বিক্রি হয়েছে ৮৮০ হতে ৯০০ টাকায়। গরুর মাংসের কেজি ৬৫০ টাকা, দেশী মুরগীর কেজি ৫০০, সোনালী ২৮০ হতে ৩০০, পোল্ট্রি মুরগীর কেজি ১৬০ আর বয়লার বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা কেজি।
চৌগাছা সেটেলমেন্ট অফিসের একজন নকলনিবেশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১০ বছর আগে ১ পৃষ্টা যে টাকায় লেখা হয়েছে এখনও সেই টাকায় চলে লেখা। আয় কোন ভাবেই বাড়েনি অথচ বাজার দর হুহু করে বেড়েই চলেছে। সংসারের সব ধরনের চাহিদা ঠিকমত মেটাতে না পারায় প্রায় দিনই পরিবারে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ্ব। পাঁচনামনা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শাহাজান আলী বলেন, যুগযুগ ধরে টিনের ঘর ছেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আগে তেমন কোন সমস্যা না হলেও গেল ২/৩ মাস ধরে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সব কিছুর দাম বাড়ার কারনে মানুষ এখন মনে হচ্ছে ঘর ছাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সপ্তাহে একটি ঘর ছাওয়ার অর্ডার মিলছেনা।
বাজারে আসা মধ্যবৃত্ত শ্রেনীর একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন ভ্যান চালক দিনে ৩শ থেকে ৬শ টাকা আয় করছে, রাজমিস্ত্রির আয় ৫শ টাকা, মাঠে জোন দেয়া ব্যক্তির আয় ৬শ টাকা, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তিনিও আয় করছেন দিনে ৫শ টাকা। আবার তারাই কিন্তু সরকারের নানা সুবিধা পাচ্ছে। আমরা না পরিছি মানুষের কাছে হাত পাততে না পারছি কারও জমিতে জোন দিতে। বাজারের এই উর্দ্ধগতির কারনে স্ত্রী সন্তানদের কাছে মনে হয় ছোট হয়ে যাচ্ছি। আসন্ন মাহে রমজানে সব ধরনের পন্য সামগ্রী সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে তার জন্য বাজার তদারাকির জোর দাবি করেছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল।