যন্তর মন্তরে অবস্থান ধর্মঘট চালাবে সিজেপি: দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে সরকারের কাছে তিন দাবি পেশ

0
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন অভিযান চলাকালে পুলিশি অভিযানের মুখে যন্তর মন্তরের ধরনামঞ্চ ভেঙে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার ভোরে পুনরায় সেখানে ফিরে এসেছেন আন্দোলনকারী নেতারা।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, নতুন করে সংসদ অভিযানের ডাক না দিয়ে যন্তর মন্তরেই তাঁদের অবস্থান ধর্মঘট নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরবেন না।

সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দিপকে বলেন, নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হলে পুলিশ ফের শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আন্দোলনকে বদনাম করার সুযোগ পাবে, যা তাঁরা হতে দেবেন না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সোমবারের পুলিশি বর্বরতায় আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় তিনি লেখেন, অমানবিক পুলিশের নৃশংসতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে না পারায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত এবং সবার স্বার্থে এই লড়াই জারি থাকবে।

সোমবারের নজিরবিহীন সংসদমুখী বিক্ষোভের জন্য পুলিশ ও আন্দোলনকারী উভয়পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছে। ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ৫টি এফআইআর দায়ের করেছে এবং ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

পুলিশের দাবি, তাঁদের ১১৮ জন কর্মী জখম হয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক ষড়যাত বা গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সিজেপির দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশি হিসাবে গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ এই আন্দোলনে অন্তত ৫০ হাজার তরুণ-তরুণী অংশ নেন।
উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও মঙ্গলবার ভোরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পুনর্গঠিত আন্দোলনমঞ্চে অবস্থান গ্রহণ করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র শিক্ষার্থীরা।। ছবি: সংগৃহীত
এদিকে, কর্ণাটকের বিজেপি নেতা কে সুধাকর দাবি করেছেন যে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো ভারতীয় সংসদ অচল করে রাখেন বিরোধী নেতারা। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করে তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা ভদ্র, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান।

সরকারের কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা স্মারকলিপি পেশ করেছেন।

দাবিগুলো হলো— শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা, অনশনকারী সোনম ওয়াংচুককে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান এবং আত্মহত্যা করা ২০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
অন্যদিকে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই সাথে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, “ভুল পথে যাওয়া খুব সহজ, সঠিক পথে থাকা কঠিন। শিক্ষার্থীদের ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই সরকারের কর্তব্য।”