মোরেলগঞ্জে স্বমহিমায় উজ্জ্বল চার জয়িতা

0

মো. শামীম আহসান মল্লিক, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) ॥ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য স্বমহিমায় উজ্জ্বলতার সাক্ষর রেখেছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার চার জয়িতা। জিতেও নিয়েছেন শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা। এরা হলেন শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে নাজমুন নাহার, সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য মহিলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোরশেদা আকতার,নির্যাতনের বিভীষিকাময় জীবন মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা সফল নারী হিসেবে শাহিনুর আকতার মুন্নি এবং অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী নুপুর বেগম।
শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নাজমুন নাহার উপজেলার গাউসুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ‘নারীরা সমাজের কোনো বোঝা নয়’ এনিয়ে তিনি মায়েদের সচেতনার পাশাপাশি মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশসহ বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মোরশেদা আক্তার। যৌতুক, বাল্য বিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার রোধ, মহিলাদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতা সৃষ্টি ও সমাজ উন্নয়নে তিনি অবদান রেখে চলছেন।
নারী নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করে সফল নারীর মধ্যে রয়েছেন মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মোকলেছুর রহমানের কন্যা শাহিনুর আক্তার মুন্নি। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর দুই সন্তান নিয়ে পিতার বাড়ি অসহায় জীবনযাপন ও চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে তিনি গামেন্টসে চাকরি নেন। জীবন যুদ্ধে অদম্য শাহিনুর বর্তমানে একটি বে-সরকারি সংস্থায় স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছেন। তিনি বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতনে প্রতিরোধে কাজ করছেন।
অর্থনৈতিক অভাব অনটনের মধ্যে থেকেও নিজ অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাষানদল গ্রামের নুপুর বেগম। ২ সন্তানের জননী নুপুর বেগমের স্বামী জয়নাল আবেদীন দিনমজুর। যে কারণে সংসারে ছিল অশান্তি। নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার নুপুর বেগম দমে থাকেনি। নিজ উদ্যোগে ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিয়ে শুরু করেন হাঁস,মুরগি, গাভী পালন। ক্রমান্বয়ে দোকান,গাড়ি রাখা ও চার্জ দেওয়ার গ্যারেজ করেন। ৬০ সদস্যের ২০ পরিবার নিয়ে গঠিত ‘পল্রী সমাজ’ নামের সংগঠনের তিনি সদস্য। তিনি এ সংগঠনের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম করছেন। নিজেও গড়েছেন সুখের সংসার।