মোংলা ইপিজেডের আগুন এখনও নেভেনি

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ বুধবার দ্বিতীয় দিনেও পুরোপুরি নেভেনি মোংলা ইপিজেডে লাগা ভারতীয় কোম্পানির মালিকানাধীন ব্যাগ তৈরির কারখানা ‘ভিআইপি’ ১ নং প্লান্টের আগুন। বিকেলেও কারখানাটির ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। তবে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগুন নেভাতে কাজ করছে মোংলা বন্দরসহ ফায়র সার্ভিসের ৮টি ইউনিট। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। এদিকে ভিআইপি’র লাগেজ কারখানায় অগ্নিকান্ডে ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ।
‘ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিডেট’ এর হেড অব এইচ আর মিজানুর রহমান খাঁন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে তাদের মোংলা ইপিজেডে ৯টি প্লান্টের মধ্যে ১ নম্বর প্লান্টে হঠাৎ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে গেলেও ততক্ষণে কারখানাটি পুড়ে যায়। এ সময় কারখানাটিতে থাকা লাগেজ তৈরির কাঁচামালসহ তৈরি লাগেজ ছিল। যা বেশ কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্রে রফতানির অপেক্ষায় ছিল। এছাড়া এ কারখানায় রাসায়নিক আঠা,পলিথিন জাতীয় দাহ পদার্থ ও হাই ভোল্টেজ মেশিনারিজ যন্ত্রপাতিও সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে মোট ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি উল্লেখ করে মোংলা থানায় মঙ্গলবার রাতে একটি জিডিও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভিআইপির কর্মকর্তা মিজানুর আরও বলেন, এ লাগেজ কারখানায় অগ্নিকান্ডের সময় সেখানে কর্মরত তাদের প্রায় ৭০০ শ্রমিক নিরাপদে দ্রুত বেরিয়ে এসেছেন। এজন্য কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মোংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ভারতীয় কোম্পানি ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিডেট এখানে বিনিয়োগ শুরু করে। শুরুতে তারা ছয়টি প্লান্টের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদনে যায়। পরে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাদের এখন ৯টি প্লান্ট রয়েছে এখানে। এসব কারখানায় ব্যাগ ও লাগেজ তৈরি করে বিশে^র বিভিন্ন দেশে এখানকার উৎপাদিত লাগেজ রফতানি করা হয়।
মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক বলেন, ‘ইপিজেডের ভেতরে ভিআইপির ১ নম্বর প্লান্টের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এখনও আগুন পুরোপুরি নেভেনি। কারখানাটিতে আগুন লেগে ভিআইপি’র অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (হিসাব) আবুল হাসান মুন্সিকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে’। গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের তদন্তের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে।
মোংলা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার ঘটনায় ভিআইপি কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক আশিস কুমার কর্মকার বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ডায়েরিতে তিনি অগ্নিকান্ডে কারখানাটির প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
আগুন লাগার মূল রহস্য এখনও জানা না গেলেও কারখানাটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত। অবশ্য ঘটনার সময় কারখানাটির অভ্যন্তরে কাজ করছিলেন এমন বেশ কয়েকজন শ্রমিক কর্মচারী জানান, অগ্নিকান্ডের আগে প্লান্টে ওয়েল্ডিং-এর কাজ চলছিল। এক পর্যায়ে হঠাৎ করে ওয়েল্ডিং -এর ফুলকি পাশে থাকা ফেব্রিক্সে ছড়িয়ে পড়ে আগুন লেগে যায়।