ভারতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

0

বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির ছয় জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। পাঁচ জনের দেহ বেনাপোল স্থলবন্দর ও একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তপক্ষ। বাংলদেশি রেবতী রানী সরকারের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের সিদ্ধান্ত নেয় তাঁর পরিবার।

ভারতের কলকাতায় মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ৯ জন পর্যটক। এদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক। নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছেছে।

শনিবার বিকেলে মরদেহগুলো বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায়। এর আগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসে। নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।

বেনাপোল দিয়ে আসা পাঁচ মরদেহের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত ও আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ রয়েছেন।

কুষ্টিয়ার নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের মরদেহ গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান। ঢাকার সাভারের সাজুর মরদেহ তার ভাই মনিরুজ্জামান গ্রহণ করেন।

ছবি: সংগৃহীত।

মরদেহ গ্রহণের সময় কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর দুই দেশের সরকারের কাছে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন জানান। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকার যেন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।

এর আগে শনিবার দুপুরে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়িতে করে কফিনগুলো বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে নেওয়া হয়। সেখানে নিহতদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন এবং বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান মরদেহ দেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি ফেরদৌস হোসেন খান বলেন, মরদেহগুলো বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন, কুষ্টিয়া শহরের আরুয়াপাড়া (মোহিনী মিল এলাকা) এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের একমাত্র সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)।

দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।

নিহত বাবু আহমেদ সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন। আর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। এর আগে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে। তার এক স্বজন বলেন, কলকাতায় তাদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। তাদের ব্যবস্থাপনাতেই নিমতলা মহাশ্মশানে সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে দাফন করা হবে।

গত ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে।