মনিরামপুরে ভয়াবহ লোডশেডিং ১৪ ঘন্টার বেশি থাকছে না বিদ্যুৎ

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর (যশোর) ॥ বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে মনিরামপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ গড়ে ১০ ঘন্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। পৌর শহরে মাঝে মধ্যে সরবরাহ করা হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের দেখা নেয় বললেও চলে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনরাত মনিরামপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে ৯ থেকে ১০ ঘন্টা। এর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় মনিরামপুর পৌর শহরে একটু বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাও আবার এক নাগাড়ে বেশিক্ষণ নয়, সর্বোচ্চ এক ঘন্টা। অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
জয়পুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে তা মানুষ আর খোঁজ খবর রাখে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন নাকাল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া প্রচন্ড গরমের কারণে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এমনটি জানা গেছে দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পৌরসভা বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে। পৌরসভার গাংড়া এলাকার মিজানুর রহমান জানান, অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিশেষ করে রাতের বেলা হাতপাখা নিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন,অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মানুষ পড়েছে মহাবিপাকে।
পৌর শহরের মহাদেবপুরে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠান জেএস স-মিল অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে প্ল্যান্টের উৎপাদন প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। আল আমিন মেটালের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত সময়ে মালামাল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তুলসি বসু বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। আর এ ধরনের চিত্র উপজেলার রাজগঞ্জ, নেহালপুর, চিনাটোলা, কুয়াদা, ঢাকুরিয়া, রোহিতা, হরিহরনগর, মশ্মিমনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, মনোহরপুরসহ প্রতিটি এলাকায়।
এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২(মনিরামপুর)এর জেনারেল ম্যানেজার আবদুল লতিফ বলেন, ‘সমিতির আওতাধীন(মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, নড়াইল, লোহাগড়া, কালিয়া)পিক আওয়ার এবং অফপিক আওয়ার গড়ে প্রতিদিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রয়োজন ১০৫ মেগাওয়াট। কিন্তু তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। তার ওপর সম্প্রতি সমিতির আওতাধীন নওয়াপাড়া গ্রিডে ক্রুটি দেখা দেওয়ায় একটু বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে আশা করা হচ্ছে দুই একের ভেতর নওয়াপাড়ার গ্রিড পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হলে পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হবে।’