মনিরামপুরে বাঁওড় ও নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় তিন উপজেলার ১৫ লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদ, চাঁপাতলা বাঁওড় ও ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর ব্রিজ না থাকায় তিন উপজেলার ১৫ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কে চলাচলরত মণিরামপুর ও ঝিকরগাছা এবং কলারোয়া উপজেলার ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হলেও মালবাহী বা কৃষি পণ্যবাহী বাহনকে যেতে হয় বহু পথ ঘুরে এবং অর্থ ও শ্রম ব্যয়ে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পারখাজুর বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদ, চাঁপাতলা খেয়াঘাট ও ঝাঁপা বাঁওড় পার হওয়ার সহজ পথ নাই। ব্রিজ থাকলে মানুষের সময় ও শ্রম বাঁচত। ব্রিজ না থাকায় কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। মালামাল পরিবহন, কৃষি পণ্য পরিবহন, নির্মাণসামগ্রী বহনসহ সমস্ত উন্নয়ন কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাজারে যেতে দ্বিগুণ টাকা পয়সা খরচ করতে হয়। সহজ চলাচলের পথ না থাকায় বেশি ভাড়া ও শ্রমের বিনিময়ে অনেক পথ ঘুরে এই সব কাজের সমাধান করতে হয়। এলাকাবাসী জানান, কলারোয়ার উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন, ঝিকরগাছ উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের দিঘদানা গ্রাম ও মনিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের মাঝখানে পারখাজুরা বাওড় ও কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন পারখাজুরা বাজার, চাঁপাতলা বাওড় ও ঝাঁপা ইউনিয়নের ঝাঁপা বাওড়ের অবস্থান। এলাকার সরকারি ও বে-সরকারি চাকরিজীবী, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পার হয়ে এ তিন উপজেলায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সরজমিনে দেখা যায়, মশ্মিমনগর ইউনিয়নে দু’টি নদীর ওপর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের ঝাঁপা বাওড়ের উপর ব্রিজ না থাকায় বৃহত্তর ৩ উপজেলার ১৫ লাখ মানুষ সময় ও শ্রম বাচাঁতে নৌকার উপর ভরসা রতে হয়। নিজেদের চলাচলের একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা থাকলেও মশ্মিমনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের লোকজন দীর্ঘদিন যাবত এসব থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া বন্যাকবলিত মশ্মিমনগর ইউনিয়ন ও ঝাঁপা ইউনিয়ন কপোতাক্ষ নদীর পাশেই অবস্থিত । একটু বৃষ্টি হলেই এ দু’টি ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামের পর গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। তখন এ দুই ইউনিয়নের গ্রামবাসীর অবস্থা আরো করুণ ও শোচনীয় হয়। এ ব্যাপারে কথা হয়, যশোর জেলা আইজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মশ্মিমনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম.এ গফুর, ঝাঁপা গ্রামের সমাজসেবক মাস্টার হুমায়ন কবির ও পারখাজুরা গ্রামের ব্যবসায়ী ইবাদ আলীর সাথে। তারা জানান, দু’টি বাওড় ও একটি নদীর উপর দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ হলে এ এলাকার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে। একই সাথে কৃষি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাবে।