মংডুতে মিয়ানমার জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলা : টেকনাফ সীমান্তে তীব্র আতঙ্ক, নাফ নদীতে টহল জোরদার

0
নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় নাফ নদী ও সীমান্তজুড়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী ভয়াবহ ও টানা বিমান হামলা শুরু করেছে। গত রাতভর যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা শক্তিশালী বোমা ও ভারী গোলাবর্ষণের বিকট শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকা।
রাখাইনের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করায় নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাফ নদী ও সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কোস্টগার্ডের টহল ও নজরদারি সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও নেটংপাড়া সীমান্ত এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। আতঙ্কে সীমান্তে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় জেলেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নাফ নদীতে মাছ ধরছেন।

গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে (আকিয়াব) থেকে যুদ্ধবিমান উড়ে এসে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের মংডুতে আরাকান আর্মির অবস্থানে একসঙ্গে ৫ থেকে ৬টি করে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় দুটি যুদ্ধবিমান অন্তত ২৭ দফা হামলা চালায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নাফ নদীর এপারের ঘরবাড়িও কেঁপে ওঠে এবং ওপারের আগুনের ঝলকানি টেকনাফ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

উখিয়ার এক রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মো. জুবায়ের দাবি করেন, জান্তার এই বিমান হামলায় রাখাইনে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে স্থলপথে আরাকান আর্মির সঙ্গে তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সংঘাত আরও বাড়লে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয়ের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সবরাং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এবং হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল চৌধুরী।

উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এবং টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও স্থল সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল ও টহল বাড়ানো হয়েছে।

আজ বিকেল পর্যন্ত সীমান্তে কোনো গুলি এসে পড়া বা নতুন করে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, দিনভর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও কোস্টগার্ড সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।