মনিরামপুরে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগ

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর (যশোর) ॥ মনিরামপুরে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন নির্মাণের কাজে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সরঞ্জামাদি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ওই তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ২ (মনিরামপুর) এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল লতিফ। অভিযুক্ত এ তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে সরঞ্জামাদি উত্তোলন করে আত্মসাতের নেপথ্যের মূল হোতা হলেন অপর ঠিকাদার মেসার্স মুবিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মনিরুজ্জামান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর প্রভাবে থাকতেন ঠিকাদার কাজী মনিরুজ্জামান। সমিতির তৎকালীন কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। তবে তার সব অপকর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ায় এবার ফেঁসে যাচ্ছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কোটি কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে।
ঠিকাদার কাজী মনিরুজ্জামানের অধীনে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মেসার্স মুবিন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ (মাগুরা), মেসার্স মারিয়ান এন্টারপ্রাইজ (জীবননগর) ও মেসার্স এমবি পাওয়ার (ঢাকা) নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে লাইন নির্মাণের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের নাট, বোল্ড, তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বরাদ্দ দিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মরিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমবি পাওয়ার ও আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি করা হয় মনিরুজ্জামান ও তার অপর দুই সহযোগী মেসার্স আনজুমান কর্পোরেশনের সাইফুল ইসলাম ও এস এস এন্টারপ্রাইজের মেহেদী হাসান টুটুলকে।
নিয়মানুযায়ী কার্যাদেশ পাওয়ার অনধিক ছয় মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্নের পর কার্যাদেশের ক্লোজআউট করার কথা। কিন্তু প্রায় তিন বছর পার হতে চললেও লাইন নির্মাণ না করে কাজী মনিরুজ্জামান তার সহযোগীদের সহয়তায় সমিতির সরঞ্জামাদি উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের(আরইবি) তদন্তে সকল অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে নিশ্চিত করে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আবদুল লতিফ জানান, ইতোমধ্যে মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আরইবিকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান আশা করা হচ্ছে দোষীদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আরইবি কর্তৃপক্ষ। আর এ সব অপকর্মের হোতা মুবিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মনিরুজ্জামান জানান, তিনটি লাইসেন্সের সমুদয় টাকার(মোট এক কোটি ৯৪ লাখ ২১ হাজার ২৭২ টাকা) সরঞ্জামাদি অচিরেই ফেরত দিয়ে ক্লোজআউট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।