মণিরামপুরে মৃত্যুর এক বছর পর যুবককে হত্যার অভিযোগে মামলা

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মৃত্যুর এক বছর পর মামুন নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে বুধবার যশোরের আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই যুবকের পিতা মণিরামপুর উপজেলার খোজালীপুর গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমান ১০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালাল অভিযোগের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৭ জুলাই দিন ধার্যের আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার কদমবাড়িয়া গ্রামের ইসলামের ছেলে আমরান, খোজালীপুর গ্রামের সানাউল্লাহ মোড়লের ছেলে আনিসুল, মোহাম্মদের ছেলে আইয়ুব সর্দার, জহর আলীর ছেলে সোবহান, শুকুর মোড়লের ছেলে ইলিয়াস, নজরুল ইসলামের ছেলে ইমন, গনি সর্দারের ছেলে আলমগীর, লতিফ দফাদারের ছেলে শাহাজান, বাকাশপোল গ্রামের আমিন উদ্দীনের ছেলে ইনামুল ও রউফের ছেলে রবিউল।
মশিয়ার রহমান মামলায় উল্লেখ করেছেন, আসামিরা কুখ্যাত সন্ত্রাসী। অজানা কোনো কারণে আসামিরা তার একমাত্র ছেলে মামুনকে একা কোথাও দেখতে পেলে তাড়া করতেন। স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তিরা এ বিষয়ে আসামিদের নিষেধও করেন। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মামুন এলাকার একজন দোকানদারের সাথে লুডু খেলা করছিলেন। এ সময় আসামি আমরান গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে তাকে তার সাথে যেতে বলেন। কিন্তু মামুন তার ডাকে সাড়া না দিয়ে বাড়িতে চলে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরান তাদের বাড়িতে গিয়ে মামুনকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় মামুন রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে আসামি আনিসুল তাদের বাড়িতে গিয়ে খবর দেন যে, মামুন দক্ষিণপাড়া মসজিদের কাছে পড়ে আছে। তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সেখান থেকে চলে যান আনিসুল। এ খবর পেয়ে তাড়াতড়ি ঘুম থেকে উঠে নলকূপে মুখ ধুতে গিয়ে সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান মামুনের পিতা মশিয়ার রহমান। এরপর মশিয়ার রহমানের স্ত্রী ও ভাগ্নেসহ কয়েকজন দক্ষিণপাড়া মসজিদের কাছে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা দেখতে পান, মামুনের রক্তাক্ত দেহ একটি কাঁথা দিয়ে ঢাকা রয়েছে। তখন আসামি আনিসুল ফের তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। নতুবা মামুনের দেহ ভাটার মধ্যে ফেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে খবর পেয়ে মণিরামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং তারা মামুনকে উদ্ধার করে পরদিন সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে থানা পুলিশ মশিয়ার রহমানের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যান। ওই ঘটনার পর থেকে মশিয়ার রহমান খুবই অসুস্থ ছিলেন। তার অভিযোগ, উল্লিখিত আসামিরা পরিকল্পিতভাবে শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাতের পর গলায় রশি দিয়ে টেনে পানিতে চুবিয়ে মামুনকে হত্যা করেছেন।