প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক, জ্বালানিসংকট নিয়ে আলোচনা

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন ।। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। এই সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সেখানে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর জীবনের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে—সেটি বিবেচনা করেই বিশ্বমঞ্চে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে ঢাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অনুরোধ জানান। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, গত বুধবার দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পূর্ণ নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখা, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য গভীর জ্বালানি সংকট মোকাবিলা নিয়ে বাংলাদেশের চরম উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে।

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, “জাতিসংঘের মতো একটি নিরপেক্ষ ফোরামে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ শ্রমজীবী কর্মী কর্মরত আছেন। তবে সেখানকার সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।”

এছাড়া কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে থাকার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনুরোধ জানিয়েছি যে, যুদ্ধের অবসান ঘটলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা আমাদের জাহাজগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই গভীর জ্বালানি সংকটে না পড়ে।” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিযুক্ত প্রস্তাবগুলো ইরানের প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে শুনেছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ চিরকালই বিশ্বের সব সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয়। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখে সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক সংলাপের সুযোগ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে।