ভালো শেয়ারের সঙ্গে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাপট

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার থেকে বেশি। এরপরও মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। মূলত বাছাই করা ভালো কোম্পানি এবং বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ায় ঊর্ধ্বমুখী সূচক।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেনের শুরুতে দেখা দেওয়া এ বড় উত্থান প্রবণতা লেনদেনের শেষপর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে লেনদেনের শেষদিকে বাছাই করা একের পর এক ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়তে থাকে। ফলে সূচকের বড় উত্থানের মধ্যদিয়ে শেষ হয় লেনদেন।
ডিএসইতে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে একটি আলাদা গ্রুপ করা হয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচকের আওতাধীন এ ৩০ কোম্পানির মধ্যে দিনের লেনদেন শেষে ১৯টি দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১টির।
বাছাই করা ভালো কোম্পানির পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপরদিকে সব খাত মিলে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭২২টির। আর ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এর পরও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের বড় উত্থানের সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ১৫৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
টাকার অংকে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ১১১ কোটি ২৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১০৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- শাহজিবাজার পাওয়ার, সাইফ পাওয়ার টেক, বেক্সিমকো ফার্মা, জিপিএই ইস্পাত, অ্যাক্টিভ ফাইন, বিবিএস কেবলস এবং ম্যাকসন স্পিনিং।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৮৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৭টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।