ব্যাংক খাত থেকে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে এস আলম গ্রুপ: বিএফআইইউর চাঞ্চল্যকর তথ্য

0
গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক দখল: ৪ দেশে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে এস আলম গ্রুপ ।। ছবি: সংগৃহীত
বিগত সরকারের শাসনকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে দেশের ৭টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ।
পরবর্তীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, নামমাত্র জামানতে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে চট্টগ্রামভিত্তিক এই শিল্পগোষ্ঠী।

বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে সরাসরি নাম না লিখে ‘এস গ্রুপ’ ছদ্মনামে কেস স্টাডি হিসেবে ঘটনাটি তুলে ধরা হলেও, সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে এটি এস আলম গ্রুপকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এস আলম গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা সুপরিকল্পিতভাবে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের বসায়। দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে অবাধে ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেয় তারা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯০ হাজার কোটি টাকা ৪৩টি সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নামে, ৯৮ হাজার কোটি টাকা বেনামি বা কাল্পনিক কোম্পানির নামে এবং অবশিষ্ট ৩৭ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য মাধ্যমে নেওয়া হয়। এই সুবিশাল ঋণের বিপরীতে মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকার বন্ধকি সম্পদ বা জামানত রাখা হয়েছিল।

সংগৃহীত ও আত্মসাৎকৃত এই অর্থ অত্যন্ত জটিল মানি লন্ডারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাচার করা হয়েছে।

অর্থ স্থানান্তরে ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারসাজি ও অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া গ্রুপটির মূল ব্যক্তিরা ভিন্ন ৩টি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।

বিএফআইইউর এই প্রতিবেদনের ওপর বক্তব্য জানতে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা ই-মেইলের উত্তর পাওয়া যায়নি।