মনিরামপুরে ফেইলের বিল
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহসংলগ্ন বাহাদুরপুরের ফেইলের বিলে ফসলি জমি নষ্ট করে স্থায়ী মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে - লোকসমাজ

মজনুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর), লোকসমাজ : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহসংলগ্ন বাহাদুরপুরের ফেইলের বিলে ফসলি জমি নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে স্থায়ী মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাইরে থেকে আসা কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ফসলি জমি লিজ নিয়ে উঁচু বেড়িবাঁধ ও প্রাচীর নির্মাণ করে পাবদা মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহাদুরপুরের ফেইলের বিলে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি মাছ চাষের পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে ধান আবাদ করে আসছেন। তবে সম্প্রতি ঝাপা ইউনিয়নের মাছ ব্যবসায়ী শাহ আলম ও আব্দুস সবুর স্থায়ী ঘের নির্মাণ করে পাবদা চাষ শুরু করেছেন। এছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম প্রায় ১২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বড় আকারের ঘের নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষক চণ্ডীদাস, কালিপদ ও কৃষ্ণ দাসসহ অনেকে জানান, উঁচু বেড়িবাঁধ ও প্রাচীর নির্মাণের ফলে বিলের পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গভীর খনন ও বছরব্যাপী মাছ চাষ চালু হলে আশপাশের জমিতে ভাঙন এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়বে।

স্থানীয়রা এ ধরনের ঘের নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। হরিদাসকাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে শহিদুল ইসলামকে কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশের পরও তিনি পুনরায় খননকাজ চালাচ্ছেন।

যদিও শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, নোটিশ পাওয়ার পর খনন বন্ধ করে শুধু বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মঙ্গলবার সরেজমিনে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ চলতে দেখা গেছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, নোটিশ অমান্য করে খননকাজ চালানো হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া খননের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।