বেনাপোলে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেনের বাসায় গুলিবর্ষণ, নেপথ্যে আর্থিক বিরোধ

যশোরে সংবাদ সম্মলেনে দাবি

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বেনাপোলে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহাগ হোসেন (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন। তিনি বেনাপোল শহরের বড়আঁচড়া এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

লিখিত বক্তব্যে সোহাগ হোসেন জানান, ব্যবসায়িক সূত্রে কুতুব উদ্দীন আশা ওরফে গোল্ড আশার সঙ্গে প্রায় নয় লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার একদিন আগে, গত ৪ জুন, কয়েকজন ব্যক্তি তার রেন্ট-এ-কার কার্যালয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোহাগ হোসেন বলেন, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি অফিস থেকে বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাসার সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা তার বসতঘর লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

তিনি বলেন, “হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে ঢুকে দেয়ালে আঘাত করে। সে সময় আমার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরেই ছিলেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা প্রাণে বেঁচে গেছি। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”

সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং এতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরাসরি অংশ নেন। তার দাবি, বেনাপোলের ছোটআঁচড়া এলাকার ইসরাফিলের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় কুতুব উদ্দীন আশা ওরফে গোল্ড আশা, নয়ন, চয়ন, বাবু ওরফে কুড়ো বাবু, বড়আঁচড়া এলাকার উজ্জ্বল, রনি ও রাজুসহ আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশাফ আলী বলেন, ঘটনার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ওসি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”