বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি: এফবিআইয়ের গোপন নথি ফাঁস

0
বিশ্বকাপে বোমাতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ বিশ্বকাপের চোখধাঁধানো গ্যালারি ও রোমাঞ্চকর পারফরম্যান্সের অন্তরালে থমথমে এক নিরাপত্তার ঝুঁকি ঝুলে ছিল বলে প্রকাশ পেয়েছে এফবিআইয়ের গোপন নথিতে। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘প্রেনসা ইবেরিকা’-র অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের (আইপিসিসি) একটি গোপন প্রতিবেদন জনসমক্ষে এনেছে।

সেই ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ একাধিক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারি প্রাণনাশের হুমকি ও মারাত্মক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা ‘হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামে পুলিশ ও খেলোয়াড়দের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।

পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হয়, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি। এ ছাড়া মিসরের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজে বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। উক্ত ম্যাচ চলার সময় স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে ‘তিনটি বোমা’ রাখার ফোনকল এলে প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দিয়ে পুরো স্টেডিয়াম তল্লাশি চালাতে হয়।
আর্জেন্টিনার অধিনায়কের মতো পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও ভুগেছেন লাগাতার নিরাপত্তাহীনতায়। হিউস্টনে পর্তুগাল দলের অবস্থানকালে রোনালদোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া টরন্টোর লিফটে এবং মিয়ামির মাঠে রোনালদোর কাছাকাছি পৌঁছানোর একাধিক ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সাথে বাদানুবাদের জেরে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে রাজনৈতিক কটূক্তি ও তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।
মাঠের ভুল বা পেনাল্টি মিসের খেসারত দিতে গিয়েও ফুটবলারদের চরম হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সুযোগ নষ্ট করায় নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ ও তাঁর স্ত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

পেনাল্টি মিস করে দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছিলেন কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজ এবং পেনাল্টি দেওয়ায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে পান মারাত্মক হুমকি। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া দল; প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ ও পুরো দলকে একযোগে মেরে ফেলার হুমকির মুখে কড়া পুলিশ প্রহরায় বিমানে তুলে দেওয়া হয়।

হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অন্তত ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়, যার অধিকাংশই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের। এমনকি একই ম্যাচের ভিএআর দায়িত্বে থাকা উইলি দেলাজোদকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।