বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা: দেশে টানা ৫ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

0
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কায় দেশে আগামী ৫ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে তিস্তা ও কুশিয়ারা সহ প্রধান নদনদীর পানি বেড়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার মুখে পড়েছে দেশ। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উজানের ভারী বৃষ্টি ও দেশের ভেতরের বর্ষণে প্রধান নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বর্তমানে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার দেশে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। এছাড়া নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারত সীমান্তের উজানে মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হওয়ায় সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৮৪টিতেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মতে, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার পানি আরও বাড়তে পারে, যার ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু এলাকায় পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি আত্রাই নদীর পানি বাড়ায় নওগাঁ ও নাটোর এবং সুরমা-কুশিয়ারার অববাহিকার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার জোরালো শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। তবে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিম্নাঞ্চলের অধিবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।