বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কঠোর নির্দেশ, সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত

বৈঠকে ঈদের ছুটিকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি ও কারিগরি ত্রুটিজনিত কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে ঈদের ছুটিকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি ও কারিগরি ত্রুটিজনিত কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এসব পরিস্থিতিতে গৃহীত পদক্ষেপ, সেবাদানে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “এটি একটি নির্বাচিত সরকার। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আপনাদেরও সেই দায়বদ্ধতার জায়গাটি অনুভব করতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ দ্রুত পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে এসব কমিটির কার্যক্রম প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ-সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। জনদুর্ভোগ কমাতে এখন থেকে কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

এদিকে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারকে কখনো কখনো জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়।

তিনি জানান, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল। এ খাতে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমাতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধান, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।