বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ ১ সেপ্টেম্বর, গণতন্ত্রের পতাকা শোভিত ,স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। মহান স্বাধীনতার ঘোষক বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের এই দিন মাত্র ১৮ জনকে এক মোহনায় যুক্ত করার মধ্য দিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হয় । এরপর তার নীতি আদর্শ দর্শনে গভীর আস্থাশীল এবং বাংলদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে সেই দলটির মোহনায় আজ যুক্ত আছেন লাখ কোটি নেতাকর্মী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন ঢাকার রমনা রেস্টুরেন্টে বিকাল ৫টায় স¦াধীনতার মহান ঘোষকের এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলটির আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ওই মোহনায় যুক্ত হওয়া ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা দেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বও ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন সংবাদ সম্মেলনে। সেই ৭৬ জন থেকে আজ এই দলের মোহনায় যুক্ত লাখো
কোটি নেতাকর্মীর পাশাপাশি কোটি কোটি ভক্তকুল। মূলত ওই সময়ে দেশ ও জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে তিনি বিএনপি নামক এই নতুন দল গঠন করেন। যার মাধ্যমে দেশে কেবল মাত্র নতুন একটি দলের আতœপ্রকাশ ঘটেনি প্রতিষ্ঠিত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র। যে কারনে তাকে বহুদলীয়
গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয়। ৪৩ বছরের পথযাত্রায় শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনও দিচ্ছেন। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিএনপি তার রাজনৈতিক আদশর্, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এর পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও জাতির প্রতি অঙ্গিকারাবদ্ধ এই দল ৪৩ বছরে দেশবাসীর সমর্থন ও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশের কল্যাণে দলের ভূমিকা, মানুষের প্রয়োজনে দলের নেতা কর্মীদের নিরলস চেষ্টাসহ বৈশ্বিক উন্নয়নের সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্ট তুলে ধরেন। তারা বাণীতে বর্তমানের আওয়ামী সরকারের শোষণ, নির্যাতন, গুম, খুন ও কণ্ঠরোধের প্রক্রিয়াকে ঘৃণাভরে স্মরণ করিয়ে দেন। নেতৃদ্বয় বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চক্রান্তমূলক মিথ্যা মামলায় ফরমায়েসী রায় দিয়ে তাঁকে ২৫ মাস অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এখনো নানা শর্তে তিনি বন্দি। দলের অগণিত নেতাকর্মীকে পোশাকি-অপোশাকি ঘাতকের গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় জর্জরিত। পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তবুও থেমে থাকেনি বিএনপির অগ্রযাত্রা। বর্তমানে চরম ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মৌলিক অধিকার হরণের মাধ্যমে রাজনীতির পথকেই সংকুচিত করে দেয়া হয়েছে। দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, লুটপাট, অনাচার আড়াল করতে একদিকে যেমন ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে, অন্যদিকে মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে ব্যস্ত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে নিয়ে চলছে মিথ্যার বেসাতি। তারা বলেন, এমন অবস্থায় দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হতে হবে- যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থেকে কাজ করা।
৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ক্ষণে তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন, অভিনন্দন জানান-দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, যিনি শত নির্যাতন, দমনে অবিচল থেকেছেন এবং এখনও লড়াই করে যাচ্ছেন। সম্মান জানান দলের একনিষ্ঠ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের, যারা গুম-খুন ও পঙ্গুত্বের ভয়কে জয় করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নৈতিক লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপির সকল প্রয়াত-নিহত নেতাকর্মীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীর প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের রায়ে তিনতিন বার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে। গভীর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা এবং নব্য আওয়ামী বাকশালীদের দীর্ঘ একযুগের অধিক সময়ের চলমান অপশাসন, দুঃশাসন নিযাতন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে আজও দলিটির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের সকল মেীলিক ও গণতান্ত্রকি অধিকার আদায়ে রাজপথে সোচ্চার।ঠিক একই ভাবে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর শুরু থেকে দলের পর্রতিটি নেতাকর্মী প্রথমে জনগণের পাশে দাড়িয়েছে সেবার ব্রত নিয়ে। দলের পক্ষ থেকে দেশরে প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় রীতিমত হেল্প সেল ও টিম গঠন করে সেবা কাযক্রম চালিয়েছে।করোনার তীব্র বিস্তার এবং অব্যাহত মৃত্যুতে যখন সর্বমহলে আতঙ্ক উৎকন্ঠা তখনো দলটির নেতাকর্মীরা নিজের এবং পরিবারের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে করোনা আক্রান্ত মানুষের পাশে নিরন্তর ছুটে গেছেন অক্সিজেন, খাদ্য ওষুধ এবং সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে। করোনা কালের শুরুতে দলটির পক্ষ থেকে জনগণের জন্য সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদণা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি মাইল ফলক ঘটনা। দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও নিজ নিজ সামর্থের বাইরে গিয়েও দাড়িয়েছে জনগণের পাশে।