যশোরের আলোচিত হোটেল জাবীরে অগ্নিকাণ্ডের মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন হোটেল জাবীর ইন্টারন্যাশনালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুট ও হতাহতের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় সন্দেহভাজন আটক ৭ জনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণও মেলেনি। এ কারণে আলোচিত ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে আটকদের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন আদালতে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল খালেক (৬৫), এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাড. সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও ইমন কাজী (২৬)।

যশোর শহরের চিত্রা মোড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবীর ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অবস্থিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হলে অজ্ঞাত পরিচয় লোকজন ওই হোটেলটি ভাঙচুর করেন। অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলের মধ্যে ঢোকে। তারা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা চুরি করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, হোটেলের স্টোরে রাখা বিভিন্ন প্রকার মালামাল, আসবাবপত্র, ১ হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেশার পাম্প, সাইবার স্টেশন, ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে গানপাউডার পেট্রোল দিয়ে হোটেলের ১ম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই হোটেলে থাকা একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন।

এছাড়া আগুনে হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে রাখা বিভিন্ন মালামাল, যাবতীয় ইলেক্ট্রিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও গ্লাসের দরজার যাবতীয় ডেকোরেশন ভস্মীভূত হয়। অগ্নিকাণ্ডে মূল ইমারতের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব ছিল না।