ভবদহে টিআরএম চালুর দাবিতে ৫ অক্টোবর পদযাত্রা

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালু, আমডাঙ্গা খাল পুনর্খনন ও প্রশস্তকরণসহ চার দফা দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ পালন করবে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এ উপলক্ষে অভয়নগর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত পদযাত্রা ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে যশোর শহরের নীল রতন ধর সড়কে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক গাজী আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর নওয়াপাড়ায় অবস্থান কর্মসূচির প্রাক্কালে ভবদহের পানিবন্দি মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ হামলা চালায়।

এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক মানুষ আহত হন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, প্রয়াত আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী, সমন্বয়ক বৈকুণ্ঠ বিহারি রায় ও সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পালসহ অনেকে আহত হন। বিধান টিকাদারের পা ভেঙে যায় বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ওই সময়ের আন্দোলনে বিল কপালিয়াসহ বিভিন্ন বিলে টিআরএম চালু, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, ভবদহ স্লুইস গেটের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, নদী-খাল সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল। ওই হামলার দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ পালন করা হয়।

সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চলতি বছরের জুলাইয়ের বৃষ্টিতে অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরের একাংশ, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার একাংশের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফসলের জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, শ্মশান ও কবরস্থান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি থাকায় এলাকায় খাদ্যসংকট ও চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

গাজী আব্দুল হামিদ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর টিআরএম চালু, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার ও নদী সংস্কারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে আইডব্লিউএমকে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারের কাজ চলছে। তবে টিআরএম চালুর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত, টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দ হলেও জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম আটকে আছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নদী সংস্কারের পাশাপাশি টিআরএম চালু না হলে চলমান কাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই আইডব্লিউএম প্রস্তাবিত একটি বিলে টিআরএম চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—মাঘী পূর্ণিমার আগে টিআরএম চালু, আমডাঙ্গা খালের পুনর্খনন ও প্রশস্তকরণ, নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ এবং ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার।

এ ছাড়া দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং টেকা ব্রিজ থেকে বাকি চার কিলোমিটার অংশ ভাসমান এস্কেভেটর দিয়ে খননের দাবি জানানো হয়। সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংগঠনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।