ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে শিবির নেতা জিসান

0
কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।। ছবি: সংগৃহীত

বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের (২৮) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা জিসান মিয়াকে রোববার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীর জামিন আবেদনও নাকচ করে দেন আদালত।

জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “আমরা আদালতে জিসানের জামিন আবেদন এবং রিমান্ড নামঞ্জুরের আবেদন করেছিলাম। তবে আদালত দুটি আবেদনই নাকচ করেছেন।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।” আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জিসানকে কখন ডিবি হেফাজতে নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি এখন বলা সম্ভব নয়।

গ্রেপ্তারের আগের ঘটনাপ্রবাহ

এর আগে গত ১৬ জুন কুমিল্লার আদালত জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার আগে চার দিন পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিকেল বোর্ড সুস্থ বলে মত দেওয়ার পর ১৬ জুন দুপুরে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারী তাঁকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে, বাকি তিনজনও গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর ওই নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জিসানের পরিবার দাবি করে আসছে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে স্বজনেরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে পুলিশ বলছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং বিয়ে এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশের অনুসন্ধানে যা জানা গেছে

জেলা পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এর পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।

অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করার সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে ১২ জুন রাতে লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।