ফি দিতে না পারায় শিক্ষকের থাপ্পড়, অভিমানে ছাত্রের আত্মহত্যা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ পটুয়াখালীর দশমিনায় টেস্ট পরীক্ষার ফি পরিশোধ না করায় প্রধান শিক্ষকের থাপ্পড় ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছে তন্ময় চক্রবর্তী (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।
সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আরজবেগী এস এ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনেই গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। তন্ময় ওই বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৃত গোপাল চন্দ্র চক্রবর্তীর পুত্র। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দশম শ্রেণির তথ্য ও প্রযুক্তি পরীক্ষা দিতে যথা সময়ে পরীক্ষা কক্ষে উপস্থিত হয় শিক্ষার্থী তন্ময়। এ সময় কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক মরিয়ম বেগম জানায়, ফি বকেয়া থাকায় পরীক্ষা দিতে পারবে না। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। তন্ময় প্রধান শিক্ষক কাওসার হোসেনের সাথে দেখা করলে, ফি প্রদান ছাড়া পরীক্ষা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেন। বাসায় গিয়ে মায়ের কাছে টাকা না পেয়ে পুনরায় প্রধান শিক্ষকের কাছে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি চায়। এসময় প্রধান শিক্ষক কাওসার হোসেন তন্ময়ের সহপাঠীদের সামনে নেশাখোর বলে থাপ্পড় মারেন।
প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে অভিমানে তন্ময় বিদ্যালয় ভবনে বসে অনেকগুলো গ্যাসের ট্যাবলেট খায়। ওষুধের প্রতিক্রিয়া শুরু হলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে তার টেবিলের ওপর বমি করে দেয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা দশমিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই দিন বিকাল ৫ টায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কাওসার হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাশীন অবস্থায় তন্ময়ের মৃত্যু হয়। পরীক্ষা ফি এর জন্য গালমন্দ কিংবা মারধর করা হয়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক কাওসার হোসেনের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে আরজবেগী এস এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দশমিনা সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক গাজী সাইদুর রহমান, মো. সবুজ ও এসহাক প্রমুখ।