প্লাস্টিকের ফুল আমদানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফাওয়ার সোসাইটির

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্লাস্টিকের ফুল আমদানির মাধ্যমে দেশের বিকাশমান ফুল খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালীর পাশাপাশি দেশের আরও ২৫ জেলায় যখন ফুল চাষের সম্প্রসারণ ঘটছে এবং তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রফতানি হচ্ছে তখন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ফুলের আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি প্লাস্টিকের ফুল দেশে আমদানি করছেন। যা ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য এক অশনি সংকেত। এ জন্য অবিলম্বে নেতৃবৃন্দ প্লাস্টিক ফুলের আমদানি বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। রবিবার দুপুরে প্রেসকাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম।
সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ফুল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বর্তমানে দেশের ২৫ জেলার ছয় হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ফুল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদিত ফুলের আকার ও আকৃতি দিয়ে তৈরি প্লাস্টিকের ফুল দেশে আমদানি করছেন কিছু ইভেন্ট ব্যবসায়ী। প্লাস্টিকের ফুল আমদানি করে দেশের এই সেক্টরটি ধ্বংসের চক্রান্ত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২০১০ সালে দেশে ফুলের বার্ষিক বাজারমূল্য ছিল ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে যা দাঁড়ায় ১৫০০ কোটি টাকা। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, একসময় বিদেশ থেকে কোটি টাকার কাঁচা ফুল আমদানি হতো। কিন্তু এখন সেই আমদানি নির্ভরতা কমে গেছে। এখন দেশের এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে ধ্বংস করতে প্লাস্টিকের ফুল আমদানির চক্রান্ত করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্লাস্টিকের ফুল পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর, স্বল্পসংখ্যক মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বিধায় অবিলম্বে সরকারকে এটি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। নেতৃবৃন্দ প্লাস্টিকের ফুল আমদানি বন্ধ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, আমদানি ফুলের উপর ৫০০ শতাংশ ট্যাক্স ও ভ্যাট বৃদ্ধি, সরকারি সব অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের ফুল ব্যবহার বন্ধ এবং সকল অনুষ্ঠানে কাঁচা ফুলের ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। তারা বলেন, দেশের উৎপাদিত ফুল যখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে, তখন বিদেশ থেকে প্লাস্টিকের ফুল এনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা ইভেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এসব ফুল ব্যবহার না করে যদি আমাদের দেশের কৃষকের কষ্টার্জিত কাঁচা ফুল ব্যবহার করা হতো তাহলে কৃষক যেমন লাভবান হতেন তেমনি পরিবেশ রক্ষা হতো। কারণ এসব প্লাস্টিকের ফুল দেশের পরিবেশের জন্য হুমকি। এর কারণে স্বল্প সংখ্যক লোক লাভবান হলেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ক্ষতি হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ফাওয়ার সোসাইটির নেতৃবৃন্দ বলেন, প্লাস্টিক ফুলের আমদানি বন্ধের দাবিতে ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলে আসছে। এ বিষয়ে সরকারের কৃষি মন্ত্রী, কৃষি সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে একাধিকবার আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা হয়নি, প্লাস্টিকের ফুল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশের যে সব এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল চাষ শুরু হয় সে সব এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মীর বাবরজান বরুণ, মাহবুব হাসান, রনি আহমেদ, জমির আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন, ফজলুর রহমান, জামির হোসেন প্রমুখ।