প্রেসক্লাব যশোরে একাধিক এসির তার চুরি

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মুজিব সড়কে অবস্থিত প্রেসক্লাব যশোরের চারতলা ভবনের ছাদ থেকে তিনটি এসির তামার তার কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত দুই দিনের কোনো একসময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ একটি ভবনের ছাদে উঠে একাধিক এসির তামার তার চুরির ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

প্রেসক্লাব যশোরের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাবের চারতলায় মিডিয়া হাউজে থাকা দৈনিক আমার দেশের কার্যালয়ের এসি থেকে ঠান্ডা বাতাস বের হচ্ছিল না। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, এসির গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে। একই ভবনে পাশেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির কার্যালয়ের এসিতেও একই সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরে ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি এসির আউটডোর ইউনিটের সঙ্গে থাকা তামার তার কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা।

চুরি হওয়া তিনটি এসির মধ্যে একটি প্রেসক্লাব যশোরের দ্বিতীয় তলার কনফারেন্স রুমের এবং অপর দুটি দৈনিক আমার দেশ ও সময় টেলিভিশনের কার্যালয়ের। ছাদে উঠে পরিকল্পিতভাবে এসির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তামার তার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সময় টিভির যশোর অফিসের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার জুয়েল মৃধা বলেন, তার ক্যামেরাপারসন আবুল কালাম আজাদ বিকেলে তাকে চুরির বিষয়টি জানান। প্রেসক্লাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত একটি ভবনের ছাদে উঠে এভাবে তামার তার চুরির ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জুয়েল মৃধার অভিযোগ, যশোরে সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত একটি ভবনের নিরাপত্তা ভেঙে চোরেরা ছাদে উঠে একাধিক এসির তার কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দৈনিক আমার দেশের সিনিয়র রিপোর্টার ও দৈনিক সুবর্ণভূমির প্রধান সম্পাদক আহসান কবির বলেন, চুরির ঘটনাটি তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসক্লাব যশোরের এডহক কমিটির আহ্বায়ক একরাম উদ দ্দৌলা জানান, এসির তামার তার চুরির ঘটনা জানার পর সন্ধ্যায় যশোরের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল আকতারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রেসক্লাবে যায় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল দেখে গেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রেসক্লাবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল আকতার বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা প্রেসক্লাবে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে ভবনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে ভালো খবর পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যশোরে বিভিন্ন স্থানে এসির তামার তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। তামার উচ্চমূল্যের কারণে চোরচক্র এ ধরনের তারকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় একদিকে যেমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে এসি বিকল হয়ে নাগরিক ও কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রেসক্লাব যশোরের মতো শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থাপনা থেকে একই সময়ে তিনটি এসির তামার তার চুরির ঘটনা তাই নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা চোরচক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।