মহেশপুর হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাছে ঘুস দাবি

0
ছবি: সংগৃহীত।

জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর (ঝিনাইদহ) ॥ মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুস দাবির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। তবে ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিং-এ ২ জন নিরাপত্তা প্রহরী, কুক মশালচি, আয়া, সুইপার, ২ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২ জন টিকিট ক্লার্ক পদে চাকরি করেন। ৫-৭ বছরের বেশি সময় ধরে এসব কর্মচারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা দিচ্ছেন। এবছর টেন্ডারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিকাদারির দায়িত্ব পান আল ওফফা নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার মনিরুল টিকিট ক্লার্ক পদের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও বাকি প্রতিটি পদের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে ঘুস দাবি করেছেন। সেই সাথে ঘুস না দিলে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে হুমকিও দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত । এদিকে ঘুসের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে না পারায় শিমু খাতুন নামের এক টিকিট ক্লার্ককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

কর্মচারী গণেশ চন্দ্র বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদশর্নে আসলে আমরা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সবাই মিলে জানিয়েছি আমাদের এখনো নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়নি। এদিকে ১৪ মাসের বেতন বকেয়া হয়েছে, নিয়োগ পত্র চাইতে গেলে ঠিকাদার ১ লাখ ২০ হাজার করে টাকা চাচ্ছেন। তখন মন্ত্রী আমাদের টাকা দিতে নিষেধ করেন এবং সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম বলেন, আপনি আমার সাথে দেখা করেন। একটা অযৌক্তিক অবান্তর প্রশ্ন করলেন, ঘুস নেব কেন ? আর আপনি আমাকে ফোন দিয়ে এসব কথা বলছেন কেন? আপনি আমাকে চেনেন ? আপনি কাকে ফোন দিয়েছেন। আমি ঠিকাদার না, ভুল জায়গায় ফোন দিয়েছেন। এরপর তিনি কলটি কেঁটে দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, আমি ও সিভিল সার্জন মোখিক ভাবে কর্মচারীদের টাকা না দিতে বলেছি। টাকা ছাড়াই আগে থেকে যারা আছেন তারাই থাকবেন বলে কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়েছি। আর টাকা যাতে লেনদেন না হয় সে ব্যাপারে শক্তভাবে মনিটরিং করছি। এছাড়াও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সামনে রেখে ঠিকাদারকে ফোন করেছিলাম ঠিকাদার ঘুস চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি বলেছি কেউ যেন এক টাকাও না দেই। চাকরি হলে এমনিতেই হবে। টাকা নিয়ে চাকরি দিতে দেওয়া হবে না।