প্রেমের বিয়ের ৪ দিন পর নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ শ্বশুর বাড়ি

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের মাত্র চার দিন পর বীথি আক্তার নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেল যশোরের বাঘারপাড়ায় স্বামীর বাড়ি থেকে। মৃত বীথি আক্তার যশোর সদরের বাহাদুরপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। বিয়ে হয় বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকোলা ইউনিয়ানের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহর সাথে। গত ১৫ এপ্রিল ছেলের বাড়িতে বীথি আক্তার গেলে সেখানেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এর ৪ দিন পরেই বীথির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেন বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। মেয়ের পরিবারের দাবি তাদের মেয়েকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে তার স্বামীর পরিবারের লোকজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয় আব্দুল্লাহর সাথে। এরপর পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান দেখার কথা বলে বের হয়ে আব্দুল্লাহদের বাড়িতে চলে আসেন বীথি আক্তার। গত ১৫ এপ্রিল বাবার বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতে এবং অমতে স্বামীর বাড়িতে তাদের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সাথে খাবার খেয়ে স্বামীর সঙ্গে নিজের শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে সেহরি খাওয়ার জন্য আব্দুল্লাহর মা ডাকাডাকি করলে আব্দুল্লাহ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার স্ত্রী পাশে নেই। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তাদের শয়ন কক্ষের পাশের কক্ষে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশের সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বীথি আক্তারের দাদি বীথির সাথে ফোনে কথা বলেন এবং তাদের আগামী ২৫ রোজার দিন বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন, বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তাবে বিথী অনীহা প্রকাশ করে বলেন, বাড়িতে গেলে তাকে আর স্বামীর বাড়িতে ফেরত আসতে দেবে না।
নববধূর চাচা বাবু জানান, ‘বীথির শ্বশুর বাড়ির এলাকার মেম্বারের ফোন পেয়ে তারা সেখানে যান। যে স্থানে বীথিকে ঝুলানো আবস্থায় পাওয়া গেছে সেখানে মৃত্যু সম্ভব নয়। কারণ পা মাটিতে ঠেকে যায়। তাদের ধারণা তাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে আড়ায় ঝোলানোর নাটক করেছে। তিনি আরও জানান, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে তারা হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাঘারপাড়া থানা অফিচার্জ ইন চার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন জানান, ‘ময়না তদন্তের জন্য লাশ যশোরে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।’