পোস্টারহীন ভোটের যুগে বাংলাদেশ: পরিবেশ রক্ষা ও ডিজিটাল শৃঙ্খলা রক্ষায় ইসির কঠোর পদক্ষেপ

0
দেয়ালে থাকবে না পোস্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন কঠোর আচরণবিধি ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দেয়ালজুড়ে প্রার্থীদের পোস্টার, সাদা-কালো কাগজের দড়ির জটলা আর নির্বাচনী প্রচারণার সেই চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন এক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশোধিত আচরণবিধিমালায় এই নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মূলত পরিবেশ দূষণ রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আধুনিক নির্বাচনী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পোস্টার নিষিদ্ধের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে পরিবেশগত বিপর্যয়কে চিহ্নিত করেছে কমিশন। সচিবের মতে, প্রার্থীরা পোস্টার ছাপানোর পর তা ল্যামিনেটিং করেন, যা পচনশীল নয়। নির্বাচনের পর এসব প্লাস্টিক ড্রেনে জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং পোস্টারের রাসায়নিক কালি ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রচারণায় নতুন বিধিনিষেধ সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা দল কোনো ধরণের পোস্টার দেয়ালে লাগাতে বা দড়িতে ঝোলাতে পারবেন না। তবে প্রার্থীরা লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এসব সামগ্রী কোনো ভবন, গাছ, বেড়া, যানবাহন বা সরকারি কোনো স্থাপনায় লাগানো যাবে না। এছাড়া লিফলেট বা ব্যানারে দলীয় প্রধান এবং প্রার্থী ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আকাশপথে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আনা হয়েছে; কেবল রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই দলীয় কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই (AI) নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এবারই প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরণের ভুল তথ্য, বিকৃত ছবি বা উস্কানিমূলক কনটেন্ট ছড়াতে পারবেন না। প্রচারণার আগে প্রত্যেক প্রার্থীকে তাদের ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও আইডি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বিশেষ টেলিভিশন সংলাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে কমিশন।

কঠোর নজরদারি ও দণ্ড তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি মানাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে ইসি। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এক প্রার্থীকে নির্বাচনী শোডাউন করার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইসি সচিব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আচরণবিধি ভঙ্গ করলে শুধু আর্থিক দণ্ডই নয়, গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে কমিশন।

ভোটের দিন যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলেও থাকবে বিধিনিষেধ। কোনো ধরণের মশাল মিছিল বা গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করাও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও ডিজিটাল নির্বাচনের মডেল তৈরি করতে চায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন।