পেট্রাপোলে বাড়তি চার্জে পাসপোর্টযাত্রীদের ভোগান্তি

0

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ নতুন বছরের শুরুতেই বেনাপোল স্থলপথে যাতায়াতকারী পাসপোর্টযাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চার্জ চাপিয়ে ভারতের পেট্রাপোল টেকপোস্টে চালু করা হয়েছে ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ (পিইউসি)।

এর ফলে যাত্রী প্রতি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভারতীয় ২০০ থেকে ৫০০ রুপি। চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজনে কিংবা জরুরি কাজে যাতায়াতকারী মানুষজনের অভিযোগ, দুই দেশের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের টানাপোড়েনের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের পকেট থেকেই।

ভারত সরকারের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এলপিএআই) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে জিএসটিসহ ২০০ রুপি এবং তৃতীয় দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার আদায় করা হচ্ছে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি।

পেট্রাপোল বন্দরের ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর আইসিপি পেট্রাপোলের ম্যানেজার কামলেশ সাইনির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে নতুন এই চার্জ কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও ২০১৯ সালে সীমিত আকারে পেট্রাপোল চেকপোস্টে যাত্রীসেবার নামে ইউজার চার্জ আদায় করা হয়েছিল। তখন যাত্রীপ্রতি চার্জ ছিল প্রায় ১০০ রুপি। যাত্রী অসন্তোষ ও পরবর্তীতে করোনা মহামারিতে স্থলপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেলে সেই চার্জ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ধরনের প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ ছাড়াই যাত্রীরা এই সীমান্ত ব্যবহার করে আসছিলেন।

নতুন করে এই ফি চালু হওয়ায় সীমান্তপথে যাতায়াতকারী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, একদিকে বাংলাদেশে ট্রাভেল ট্যাক্স ও পোর্ট ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ভারত অংশে নতুন করে ইউজার চার্জ বসানো হয়েছে। দুই দেশের ভেতরের সিদ্ধান্তের সমন্বয় না থাকায় দ্বিগুণ চাপ পড়ছে যাত্রীদের ওপর।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে অপেক্ষমাণ যাত্রী রাজিয়া সুলতানা বলেন, দুই দেশের মধ্যে কী সমস্যা বা সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝি না। কিন্তু তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের। চিকিৎসার জন্য যাওয়া মানুষের জন্য এই বাড়তি টাকা খুব কষ্টের।

ভারতগামী যাত্রী তাসিন হোসেন বলেন, বাংলাদেশে কর দিয়ে বের হই, ভারতে ঢুকেই আবার নতুন চার্জ। দুই দেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বইতে হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার যাত্রীপ্রতি এক হাজার টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স ও ৫৬ টাকা পোর্ট ট্যাক্স আদায় করছে। এর সঙ্গে ভারতের নতুন করে ২০০ রুপি পোর্ট চার্জ যুক্ত হওয়ায় সীমান্তপথে যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

পেট্রাপোল কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে এই চার্জ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পেট্রাপোল অংশে নতুন করে প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ আরোপ করা হয়েছে বলে যাত্রীরা আমাদের জানিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় ল্যান্ড পোর্টস অথরিটির সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশ অংশে এ ধরনের কোনো চার্জ আদায় করা হচ্ছে না।

সীমান্তের নিয়মিত যাত্রীদের দাবি, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগত দ্বন্দ্ব বা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার দায় যেন সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না পড়ে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই চার্জ পুনর্বিবেচনা এবং চিকিৎসা ও জরুরি যাত্রায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।