পুশইন, সার পাচার ও সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সার পাচার ও ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে চলাচল ও বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধ থেকে বিরত থাকতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুল কাদের সীমান্তঘেঁষা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিজিবির এ কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সার পাচার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে ভারত থেকে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুশইন বা সার পাচারসহ সীমান্ত অপরাধের কোনো তথ্য স্থানীয়দের কাছে এলে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে হবে।

বিজিবি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চলছে। সীমান্তের ওপারে থাকা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পুশইন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সার ভারতে পাচারের আশঙ্কায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। কোনো ব্যক্তি বা চক্র সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানোর জন্যে সীমান্তবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ না করা, শূন্যলাইন অতিক্রম না করা, সন্ধ্যার পর সীমান্ত এলাকায় অবস্থান না করা ও শূন্যলাইনের কাছে গবাদিপশু না চরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, মাদক, সোনা, গরু ও মানবপাচারসহ সীমান্তের সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুল কাদের বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা ও অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে সার পাচার, পুশইন ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ আরও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি বেড়েছে। সার পাচার ও অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা হলে তা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার জন্যেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পুটখালী সীমান্ত এলাকার সাগর হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সীমান্তের কাছাকাছি বসবাস করায় আমরা সব সময় সতর্ক থাকি। অপরিচিত লোকজনের চলাচল কিংবা সন্দেহজনক কোনো কর্মকান্ড চোখে পড়লে বিজিবিকে জানানোর চেষ্টা করি। সীমান্ত দিয়ে সার পাচার বা অবৈধভাবে কাউকে পুশইনের চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বেনাপোল সীমান্ত এলাকার আরেক বাসিন্দা মারুফ হাসান বলেন, সীমান্তে কোনো অপরাধ হলে এর প্রভাব স্থানীয় মানুষের ওপরও পড়ে। বিজিবি যদি নিয়মিত নজরদারি আরও বাড়ায় ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে, তাহলে সার পাচার ও পুশইনসহ বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।