পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন বিলুপ্ত; চরম অস্থিরতার মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ।। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর চরম অস্থিরতায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ভেতরে বিদ্রোহ, এমএলএদের বড় অংশের বেরিয়ে যাওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের সব শাখা কমিটি ভেঙে দেওয়ার মতো নাটকীয় ঘটনার মধ্যে সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল পায় মাত্র ৮০টি। মমতা নিজেও নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় বিধানসভায় প্রবেশের সুযোগ হারান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে বিধায়কদের বড় অংশ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

দল থেকে বহিষ্কৃত এমএলএ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়ে জানায়, ৮০ জন এমএলএর মধ্যে ৫৮ জন তাদের সঙ্গে রয়েছেন এবং তারাই ‘আসল তৃণমূল’। আজ বুধবার ৫৮ জন বিধায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঘোষণা দেন এবং বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করেন। তবে বিভ্রান্তিকরভাবে, নতুন দলের বিধানসভার অধ্যক্ষকে দেওয়া চিঠিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে ৫৮ জন নাকি আরও কম বিধায়ক নতুন দলে রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে আজ তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, গভীরভাবে পর্যালোচনার পর পশ্চিমবঙ্গে দলের সব কমিটি, শাখা ও উপসংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে তৃণমূলের কোনো আনুষ্ঠানিক সংগঠন আর নেই। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে মমতা বা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই কিছু জানাননি।

এদিকে মমতার পক্ষে থাকা নেতাদের মধ্যে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে তার দপ্তরে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন, যা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিধানসভার অধ্যক্ষ এখনো মুখ খোলেননি। নতুন তৃণমূলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না এবং বিধায়কদের দলীয় পরিচয় কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা বিকেলের মধ্যে জানা যাওয়ার কথা।