পদ্মা সেতুকে ‘জীবনানন্দ সেতু’ নামকরণের দাবিতে যশোরে সংবাদ সম্মেলন ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পদ্মা সেতুর নামকরণ করার দাবি নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে ঠিক তখনি যশোরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই সেতুকে ‘জীবনানন্দ সেতু’ নামকরণের দাবি জানিয়েছে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ নামের একটি সংগঠন। বুধবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি অনুপম ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অহংকারের নাম পদ্মা বহুমুখী সেতু, যা আগামী মাসে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। তাই গৌরব ও অহংকারের এ সেতুর নামকরণ ‘জীবনানন্দ সেতু’ করার দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আমাদের দেশে বিশ্বকবি রবি ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, নারী জাগরণের কবি বেগম রোকেয়া, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে বিশ্ববিদ্যালয়- মহাবিদ্যালয়সহ নানা স্থাপনা থাকলেও রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের নামে কোনও স্থাপনা নেই। পদ্মা সেতু দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে গোটা দেশের মূল যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দক্ষিণবঙ্গের জেলা বরিশালে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। সে কারণে বৃহৎ এ স্থাপনার নামকরণ তার নামে প্রথমেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
অনুপম ঘোষ বলেন, প্রতিবেশী দেশের দ্বিতীয় হুগলী সেতুর নাম বিদ্যাসাগর সেতু, আসাম রাজ্যে বৃহত্তম সেতু ভূপেন হাজারিকা, বনগাঁও রেলস্টেশন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নামকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, শিল্পী সাহিত্যিকদের নামে কেবল কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নয়, অন্যান্য স্থাপনারও নামকরণ করা যায়।
নেতারা পদ্মা সেতুকে জীবনানন্দ সেতু নামকরণে প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে আগামী ৬ জ্যৈষ্ঠ (২০ মে) পদ্মা সেতুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। ওই দিন পথে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে পথসভা করে সাধারণ মানুষকে অবহিত করবেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শেখ, প্রচার সম্পাদক সুরঞ্জিত বিশ্বাস, অর্থ সম্পাদক শঙ্কর বিশ্বাস প্রমুখ।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর নামকরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করার দাবি নিয়ে গত কয়েকদিন দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা সেতুটির নাম শেখ হাসিনার নামে করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এমনি অবস্থায় ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ নামে এ সংগঠনের ব্যানারে সেতুটির নাম জীবনানন্দ সেতুর দাবি জানানোর কারণে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হলো বলে অনেকেই মনে করেন।