পদ্মায় তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত, দৌলতদিয়ায় ৯ কিলোমিটার যানজট

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে অন্তত নয় কিলোমিটার দীর্ঘ সারিতে আটকে আছে বাস, ট্রাকসহ হাজারো যানবাহন। ঘাটে আসার পর তিন-চার দিনেও ফেরির নাগাল মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ট্রাকচালকরা। এতে খাবার, পানি ও টয়লেটের প্রয়োজনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষ। ঘাট সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় বৃহস্পতিবার পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি ফেরি নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে।
এ ছাড়াও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। যে কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় কয়েকদিন ধরে তৈরি হচ্ছে পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি। প্রতিটি পণ্যবাহী যানবাহনকে ফেরির নাগাল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত। শুক্রবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অন্তত তিন কিলোমিটারজুড়ে অপচনশীল পণ্যবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি। একইসাথে রয়েছে প্রায় শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন। এ ছাড়া একইভাবে ঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে আহলাদিপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্মার দক্ষিণপ্রান্তে হাজারের অধিক গাড়ি আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী যানবাহন ও কাঁচামালবোঝাই ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
ঘাট সূত্রে আরো জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হলেও পদ্মা ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই নৌরুটে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসির ট্রাকচালক রাসেল মিয়া ও আ: সালাম জানান, তারা নদী শাসনের কাজে ব্যাবহৃত জিও ব্যাগবোঝাই করে নরসিংদী যাচ্ছেন। সোমবার তারা গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকে পড়েন। শুক্রবারও তারা পদ্মা পার হতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত হয়। যশোর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে তিন দিন ধরে নদী পার হওয়ার অপেক্ষা করছি। এ দিকে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় খোলা সড়কে রাত কাটাতে চালক ও সহকারীরা বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানান। খাবার, পানি ও টয়লেটের জন্য তাদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই ) জহুরুল হক বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট যানজট মুক্ত রাখতে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় অপচনশীল পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে আটকে রাখা হচ্ছে। আজকে শুক্রবার ছুটির দিনে সেখানে অন্তত পাঁচ-ছয় কিলেমিটার পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি রয়েছে। ঘাটে গাড়ির চাপ কমলেই সেখান থেকে গাড়িগুলো সিরিয়াল অনুসারে ঘাটের দিকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামাল হোসেন বলেন, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ। পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নদী পারের জন্য ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী যানবাহন ও কাঁচামালের ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।