নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনও সংশয়ে থাকেন না কোহলি

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মাঠে ঢোকেন চোয়াল শক্ত করে। ক্রিকেট মাঠে বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের সময়কার বিরাট কোহলি মানেই আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান এক ক্রিকেট যোদ্ধা, আস্থার প্রতিমূর্তি। নিজ সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাসী এক উইলোবাজ। বিরাটকে দেখে মনে হয় না কোন ডর-ভয় আছে ভেতরে, নিজের সামর্থ্যে কোনরকম সংশয়-সন্দেহ আছে মনে। প্রচন্ড সাহসী, আত্মবিশ্বাসী ও নিজ সামর্থ্যের ওপর যার প্রগাঢ় আস্থা- সেই বিরাট কোহলির কাছে সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে তামিম ইকবালের শেষ প্রশ্ন, ‘আচ্ছা বিরাট ভাই, কোন বিগ ম্যাচের আগে আপনার কি কখনও মনে সংশয়-সন্দেহ জাগে বা জেগেছে? কখনও কি মনে হয়েছে যে, আমি এটার জন্য প্রস্তুত নই? এমন কোন চিন্তা মনে এসেছে কোন সময়?’ এখানেও আত্মবিশ্বাসী জবাব বিরাটের, ‘খেলার মধ্যে আমার কখনও নিজেকে নিয়ে ডাউট হয়নি, হয়ও না। খেলার ভেতরে আমার মনে নিজ সামর্থ্য নিয়ে কোনরকম সংশয় থাকে না, থাকার সুযোগও নেই। কারণ ম্যাচ কন্ডিশনে অত শত ভাবার অবকাশ নেই।’ তবে স্বীকার করেছেন মাঠের বাইরে কখনও যে নিজের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় জাগেনি, ভেতরে সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠেনি- এমন নয়। মানছেন, সেটা মানুষ মাত্রই হয়। তাই বলেন, ‘এটা তো সত্য প্রতিটি মানুষের ভেতরে কোন না কোন সংশয়-সন্দেহ থাকে। সবার দুর্বলতা, ঘাটতি থাকে।’ তবে নির্ভিক যোদ্ধা বিরাট মাঠে গিয়ে কখনও সামর্থ্য নিয়ে দ্বিধা-সংশয়ে ভোগেন না। তার ব্যাখ্যা, ‘দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে কখনও মাঠের বাইরে সামর্থ্য নিয়ে একটা সংশয় জাগে। ধরুন, আপনি কোন সফরে গিয়ে প্র্যাকটিসে ভাল ব্যাটিং করলেন না। তখন চিন্তা জাগে, আরে আমার ব্যাটিংয়ের সেই গতি ও ছন্দ আসছে না যে। তখন একটা সংশয় এসে বাসা বাঁধে। মনে হয়, আমি কি তাহলে খেলার জন্য তত ভাল নই। তখন নিজের মনের ভেতরে একটু খুঁতখুঁতে ভাব লেগেই থাকে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে আসল কথ হলো, যখন অমন সংশয় জাগবে তখন ভাবতে হবে, এটা শুধুই চিন্তা। এটা বাস্তব নয়। আমি বিশ্বাস করতে চেষ্টা করি আমি এখনও ভাল, তাহলে যথেষ্ঠ ভাল। খেলার মাঠে আসলে নিজের সামর্থ্য নিয়ে সংশয়ে ভোগার কোন কারণ নেই। সে সুযোগও নেই।’
কেন নেই? তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিরাট কোহলি বলেন, ‘খেলার ভেতরে আসলে অত শত ভাবার, চিন্তা করার ও সংশয়ে ডোবার সময়ও থাকে না। সেখানে আপনাকে যেতে হয়, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হয়। দলের কী দরকার, আমার কী করণীয়?- এসব মাথায় রাখতে হয়। তখন নেতিবাচক চিন্তা দূরে থাকে। আসলে কোন নেতিবাচক চিন্তা মাঠের বাইরেই বেশি আসে।’ তার শেষ কথা, ‘আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি কখনও ভাবি না যে, আমি যথেষ্ঠ ভালো নই। আমাদের কাজ হলো পজিটিভ থাকা।’