নিউজিল্যান্ডে টাই না পরায় এমপিকে সংসদ থেকে বের করে দিলেন স্পিকার

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ টাই না পরে আসায় সংসদে বক্তব্য রাখতে পারলেন না নিউজিল্যান্ডের মাওরি সম্প্রদায়ের নেতা রাওইরি ওয়েইতিতি। পোশাক নিয়ে বিতর্কের জেরে তাকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন দেশটির স্পিকার ট্রেভর মালার্ড। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে এ সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বিষয়টা টাইয়ের নয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের, বন্ধু।’ এর আগে, সংসদের ড্রেস কোড নিয়ে ওয়েইতিতি এবং স্পিকারের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ওয়েইতিতি স্পিকারের আদেশ অমান্য করে টাইয়ের বদলে গলায় মাওরিদের ঐতিহ্যবাহী পৌনামু বা সবুজ পাথরের নেকলেস পরে এসেছিলেন। এ নেতার দাবি, তিনি ‘মাওরি ব্যবসায়িক পোশাক’ পরে এসেছেন। তবে স্পিকার ম্যালার্ড ঘোষণা দেন, টাই না পরলে ওয়েইতিতি বক্তব্য রাখতে পারবেন না। এরপরও এ সংসদ সদস্য কথা বলা শুরু করলে তাকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেন স্পিকার। মাওরি পার্টির নেতা রওয়াইরি ওয়েইতিতি এর আগে টাইকে ‘ঔপনিবেশিক ফাঁস’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে নারী সংসদ সদস্যদের জন্য বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এদিন মাওরিদের আরেক নেতা ডেবি নাগেরেভা-প্যাকার ঠিকই টাই পরেই সভাকক্ষে গিয়েছিলেন। স্পিকার ম্যালার্ড গত সপ্তাহে সংসদের সভাকক্ষে পুরুষ সদস্যদের টাই পরার বাধ্যবাধকতা চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
We’re back in the house for 2021 – @Rawiri_Waititi and I have had our first caucus hui, met new staff, supported petition to stop synthetic fertilisers, challenged the Govt to ban seabed mining and fought for our tikanga to be included in the house. Day onepic.twitter.com/zBej204HGe
— Debbie Ngarewa-Packer MP (@packer_deb) February 9, 2021
নিউজিল্যান্ডের নতুন সংসদ দেশটির ইতিহাসে সর্বাধিক বৈচিত্র্যময় এবং অংশগ্রহণমূলক। সেখানে ৪৮ শতাংশ সদস্যই নারী, ১১ শতাংশ এলজিবিটিকিউআই, ২১ শতাংশ মাওরি, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং সাত শতাংশ এশীয় বংশোদ্ভূত। দেশটির সংসদে সদস্যদের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয়বহনকারী পোশাক পরতে দেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বলেছেন, সংসদে টাই না পরলে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো আপত্তি নেই। তার মতে, সংসদে আলোচনার জন্য এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে। জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার মনে হয় না, নিউজিল্যান্ডবাসী টাইয়ের বিষয়ে খুব একটা মাথা ঘামান।’